© সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের নন্দনপুর এলাকায় পুলিশ–বিজিবির সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ মার্চ) বিকেল পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া শহরের কান্দিরপাড়া এলাকায় ছাত্রলীগ ও মাদ্রাসা ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের সংঘর্ষে নিহতের একজন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা রয়েছে। তার নাম হাফেজ মো. কাউওসার আহমেদ (২২)। তিনি সংগঠনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কার্যকরী সদস্য ছিলেন।
শনিবার রাতে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় (ভারপ্রাপ্ত) আহবায়ক মো. রাশেদ খাঁন। নিহতের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের বুধল গ্রামে বলে জানা গেছে।
এছাড়া বাকি নিহত ব্যক্তিরা হলেন নন্দনপুর হারিয়া গ্রামের আবদুল লতিফ মিয়ার ছেলে ওয়ার্কশপের দোকানি জুরু আলম (৩৫), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দাবিড় মিয়ার ছেলে শ্রমিক বাদল মিয়া (২৪) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বারিউড়া এলাকার মৈন্দ গ্রামের জুরু আলীর ছেলে সুজন মিয়া (২২)।
কান্দিরপাড়া এলাকায় সংঘর্ষে নিহত ছাত্রের নাম জুবায়ের (১৭)। তার বাড়ি সদর উপজেলার সরিদপুর গ্রামে। সে কান্দিরপাড়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার ছাত্র। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল থেকে নিহতের পরিচয় পাওয়া গেছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রানা নুরুস শামস গুলিবিদ্ধ হয়ে এই পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়ন থেকে বিকেল চারটার দিকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের নন্দনপুর এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজনও হেফাজতের মিছিলে যোগ দেন। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। পরে বিজিবি ও পুলিশ গুলি ছোড়ে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, বুধল ইউনিয়নের নন্দনপুর থেকে পুলিশ কোনোমতে প্রাণে বেঁচে এসেছেন। পুলিশের অনেকে আহত হয়েছেন। নিহতের ঘটনায় বিষয়টি তার জানা নেই।