ওবায়দুল কাদেরের এপিএস পরিচয়ে চাকরির তদবির, শ্রীঘরে ছাত্রলীগ নেতা

২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:৪৯ PM
সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে ‘আমার ভালবাসার শেষ ঠিকানা’ ক্যাপশনে ফেসবুকে ছবিও পোস্টও করেছেন এই নেতা

সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে ‘আমার ভালবাসার শেষ ঠিকানা’ ক্যাপশনে ফেসবুকে ছবিও পোস্টও করেছেন এই নেতা © ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

মোজাম্মেল হক ইয়াছিন। পড়াশোনা করছেন ঢাকা কলেজে। কলেজে থাকাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকার সুবাদে লবিং-তদবির করে পদ পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে। এরপর হয়ে উঠেন বেপরোয়া। মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি তুলে তা দিতেন ফেসবুকে। সরকারি বিভিন্ন দফতরে গিয়ে নিজেকে পরিচয় দিতেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে। আর এসবের মধ্যেই চলছিল তার তদবির বাণিজ্য। যার মাধ্যমে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা।

তাছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি গ্রুপ ছবি ‘ভালোবাসার শেষ ঠিকানা’ ক্যাপশনে একাধিকবার ফেসবুকে পোস্টও করেছেন সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা। ‘আমার ভালবাসার শেষ ঠিকানা’ ক্যাপশনে ফেসবুকে আরেকটি ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সোহাগ-নাজমুল কমিটির কার্যনির্বাহী কমিটির একজন সদস্য ছিলেন মোজাম্মেল।

সেতুমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দিয়ে তার (মন্ত্রীর) সিল ও সই জালিয়াতির ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়েন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক এ সদস্য। এখন জেলখানায় মোজাম্মেলের ঠিকানা। বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের জাউলহাটী চৌরাস্তা এলাকার ৭৭৩ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের কোতয়ালী জোনাল টিম।

এই ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উচ্চমান সহকারী (প্রশাসন শাখা) এস এম আবুল কালাম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরে বাংলানগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মোজাম্মেল নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার বনতিয়শ্রী গ্রামের আ. রশিদের ছেলে।

জানা গেছে, গত ১৭ নভেম্বর এলজিইডির সহকারী প্রধান প্রকৌশলী মাহবুব ইমাম মোরশেদ এর কাছে অধিদপ্তরের অস্থায়ী কার্য-সহকারী পদে মো. মাঈন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির জন্য চাকরির সুপারিশ নিয়ে যায় মোজাম্মেল হক। এক পৃষ্ঠার ওই আবেদনপত্রের উপরে সবুজ কালি দিয়ে লেখা ছিল ‘সদয় বিবেচনা করিয়া অস্থায়ী কার্য-সহকারী পদে চাকরি দেওয়া জন্য জোর সুপারিশ করছি’। সেখানে সেতুমন্ত্রীর সই এবং মন্ত্রীর নাম সম্বলিত সিল দেওয়া ছিল। যদিও এই সিল ও সই দুটোই ভুয়া ছিল।  

পরে সেতুমন্ত্রীর সুপারিশ দেখেই এলজিইডি অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মাহবুব ইমাম মোরশেদ দ্রুতই আবেদনপত্রটি ফরওয়ার্ড করে দিয়েছিলেন। কিছুদিন পরে প্রতারক প্রকৌশলীকে সেতুমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দিয়ে ফোন করেন। এরপর সন্দেহ জাগলে সেতুমন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন মাহবুব ইমাম। এরপর তিনি বুঝতে পারেন, মোজাম্মেল হক একজন প্রতারক।

প্রকৌশলী মাহবুব ইমাম মোরশেদ বলেন, মাসখানেক আগে মোজাম্মেল হক সেতুমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দিয়ে আমার দফতরেই এসেছিলেন। সেতুমন্ত্রীর সুপারিশ করা একটি চাকরির আবেদনপত্র দিয়ে বলেছিলেন, মন্ত্রীমহোদয় এই কাজটি করে দিতে বলেছেন। তার কিছুদিন পর সে মোবাইল ফোনেও এপিএস পরিচয় দিয়ে তদবির করেন। তার চালচলন ও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে, সংশ্লিষ্ট দফতরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি এই নামে সেতুমন্ত্রীর কোনো এপিএস নেই।

তিনি আরও বলেন, মোজাম্মেল একজন প্রতারক। পরে তাকে বুঝতে না দিয়ে বিষয়টি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে জানাই। এরপর তদন্ত করে তারা তাকে গ্রেফতার করেছে।  

গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মোজাম্মেল ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের রাজধানীতে জড়িত ছিলেন। এরপর ছাত্রলীগের সোহাগ-জাকিরের কমিটিতে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে সদস্য হিসেবে স্থান পান। ২০১৪ সালে মাস্টার্স শেষ করেন তিনি। ফেসবুকে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছবি পোস্ট দিয়ে নিজেকে ক্ষমতাধর হিসেবে প্রচার শুরু করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দাওয়াত কার্ডের ছবি তুলে সেটিও ফেসবুকে দিয়েছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি তুলে তা ফেসবুকে দিতেন এই প্রতারক। এসবের উদ্দেশ্য ছিল ছবিগুলো বিভিন্ন মানুষকে দেখিয়ে তদবির করা। কাজ হওয়ার আগেই মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন প্রতারক মোজাম্মেল। এভাবে তদবির বাণিজ্য করে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এই প্রতারক।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, সেতুমন্ত্রীর সিল ও সই জালিয়াতির ঘটনায় এলজিইডি অধিদপ্তর থেকে পাওয়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালিয়ে কামরাঙ্গীরচর এলাকার বাসা থেকে মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করি। সে সরকারি বিভিন্ন দফতরে গিয়ে নিজেকে সেতুমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দিতেন। চাকরির সুপারিশ, বদলিসহ বিভিন্ন তদবির করতেন। সর্বশেষ এলজিইডি অধিদপ্তরে এক প্রকৌশলীর কাছে এপিএস পরিচয় দিয়ে চাকরির সুপারিশ করেছিলেন এই প্রতারক। এমনকি ওই সুপারিশের মধ্যে থাকা সেতুমন্ত্রীর সিল ও সইও তারই করা জালিয়াতি ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল নয়, স্থগিত: জাতীয় সংসদে…
  • ২৮ জুন ২০২৬
নেত্রকোনায় মাদককে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন ফুটবলপ্রেমীরা
  • ২৮ জুন ২০২৬
শিশুর পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধে মায়ের শালদুধের বিকল্প নেই: স্ব…
  • ২৮ জুন ২০২৬
ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সুরক্ষার দায়িত্ব সবার: ইব…
  • ২৮ জুন ২০২৬
আড়ং নিয়োগ দেবে অ্যাসিস্ট্যান্ট, আবেদন ৫ জুলাই পর্যন্ত
  • ২৮ জুন ২০২৬
চীনে মাস্টার্স-পিএইচডি ভর্তির সুযোগ পাবেন ১০০ বাংলাদেশি শিক…
  • ২৮ জুন ২০২৬