গোপালগঞ্জ ছাত্রদলের নতুন কমিটি

আহ্বায়ক আওয়ামী পরিবারের সদস্য, আছে সন্তানও, মামীকে ধর্ষণ মামলার আসামি সদস্য সচিব

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫১ PM , আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫১ PM
বাম পাশে আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও ডান পাশে সদস্য সচিব সাজিদুর রহমান লিয়ন

বাম পাশে আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও ডান পাশে সদস্য সচিব সাজিদুর রহমান লিয়ন © টিডিসি সম্পাদিত

গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের ২৮ সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটিতে ধর্ষণ মামলার আসামি ও আওয়ামী পরিবারের সদস্যদের পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে নানা আপত্তির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে কমিটিতে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক, সোহান আল ইমামকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাজিদুর রহমান লিয়নকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটিতে আরও যারা আছেন
ঘোষিত কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন আকিবুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান মোল্যা (রইন), মো. মেহেদী হাসান, তাসবীর হাসান, মো. আমিরুল ইসলাম সোহেল, ইসমাইল হোসেন, মো. নাহিদুল ইসলাম সোহেল, মোহাম্মদ লালন শেখ, নিলয় হাওলাদার মোস্ত ও সোহাগ আফতাব।

কমিটির সদস্যরা হলেন—শেখ রেদোয়ান ইকবাল, সাহেদ হাসান পিয়াস, রাজিব মোল্লা, মাহফুজুর রহমান, উজ্জ্বল শিকদার, মো. শরিফুল ইসলাম, হাসানুল আলম রাজু, তারিকুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, মো. আমিন শেখ, মেহেদী হাসান, মেহেদী হাসান খান, আবির শিকদার, আহসান বিশ্বাস ও রাহাদুল ইসলাম রাদ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে জেলা ছাত্রদলের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

শীর্ষ দুই নেতাকে নিয়ে নানা অভিযোগ
নতুন কমিটি নিয়ে ক্ষুব্ধ কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে পারিবারিক সংশ্লিষ্টতা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মামলা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, সাইফুলের বাবা মো. গোনজের মোল্লা লতিফপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার বড় ভাই মাসুদ মোল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বর্তমানে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন তারা। ছোট ভাই শামীম মোল্লা সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ (বর্তমানে পল্লবী সরকারি কলেজ) ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নেতাকর্মীরা আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সাইফুলের পরিবারের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল।  এ ছাড়া তিনি ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং তার একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সংগঠনে যুক্ত হওয়া এবং আওয়ামী পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নতুন কমিটিতে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন দলের দুঃসময়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া কয়েকজন নেতাকে কমিটিতে রাখা হয়নি।

এদিকে নতুন কমিটির সদস্য সচিব সাজিদুর রহমান লিয়নের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন নেতাকর্মী। তাদের দাবি, ২০২১ সালে তার নিজের মামিকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয় এবং ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। গোপালগঞ্জ সদর থানার মামলার তথ্য অনুযায়ী, এফআইআর নম্বর ০৯/৪৪১, তারিখ ৯ নভেম্বর ২০২১ এবং জিআর নম্বর ৪৪১/২১, তারিখ ১০ নভেম্বর ২০২১। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া সাজিদুর রহমান লিয়নের বিরুদ্ধে হিজবুত তাহরীরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও অভিযোগ নেতাকর্মীদের।

সদস্য সচিব সাজিদুর রহমান লিয়ন ওরফে লিওন খানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সংগঠনে যুক্ত হওয়া এবং আওয়ামী পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নতুন কমিটিতে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন দলের দুঃসময়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া কয়েকজন নেতাকে কমিটিতে রাখা হয়নি।

বাদ পড়া নেতাদের মধ্যে জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল কায়েস, সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রোমান ও সহ-সভাপতি সাইফুল আলমের নাম উল্লেখ করেছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

আমি এ পর্যন্ত যতটুকু এসেছি, আমার যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতায় পেয়েছি। আমার চেহারা বা ক্ষমতা দেখে পদ দেয় নাই, আমার কর্মের ওপরই আমি পদ হোল্ড করতেছি— সাইফুল ইসলাম, আহ্বায়ক, গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদল

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতাকর্মী বলছেন, কেন্দ্রের উচিত নতুন কমিটির নেতাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অতীত যাচাই করে অভিযোগগুলো তদন্ত করা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো প্রোগ্রাম বা কোনো কর্মসূচিতে আমাদের পরিবারের কেউ যুক্ত নেই। ২০১৫ সালে আমি সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ ছাত্রদলের সেক্রেটারি ছিলাম, ২০১৮ সালে এসে জেলা ছাত্রদলের সেক্রেটারি হই এবং ২০২৬-এ এসে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হয়েছি। ২০১৮ সালে জেলা ছাত্রদলের সেক্রেটারি হওয়ার পর থেকে আমার পরিবারের কেউ কোনো ধরনের আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নেই। আমি এ পর্যন্ত যতটুকু এসেছি, আমার যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতায় পেয়েছি। আমার চেহারা বা ক্ষমতা দেখে পদ দেয় নাই, আমার কর্মের ওপরই আমি পদ হোল্ড করতেছি।

তিনি বলেন, আমার বড় ভাই মাসুদ মোল্লা জেলা ছাত্রলীগের পদে ছিল ২০১৮ সালের আগে। হামিদ-রফিকের যে কমিটি ছিল, তারপর থেকে সে আর কোনো কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত নাই। আর আমার বাবার টোটালি কোনোদিন কোনো আওয়ামী লীগের পদ-পদবী ছিল না। ওয়ার্ড সভাপতি ছিল—এই কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটা হয়তো কোনো এক চক্র বানিয়েছে। গোপালগঞ্জের ১০-১৫ টা ছেলেমেয়ে বাদে সবার রক্তেই কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক বা যোগাযোগ থাকাটা স্বাভাবিক, অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু ২০১৮ সালের পর থেকে টোটালি আমার ফ্যামিলির কেউ আওয়ামী লীগের কোনো কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নেই।

চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে সাইফুল ইসলাম বলেন, যে কমপ্লেনগুলো দেওয়া হয়েছে, স্থানীয় যত টেন্ডার দপ্তরে হয়—প্রশাসন আছে, আপনারা অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখেন যে কোনো স্টাফ আমাকে চেনে কিনা। রাজনীতি করতে গেলে প্রতিপক্ষ থাকবে, কমপ্লেন অনেকেই দেবে। ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে শত্রুতা করার জন্য এসব বলা হচ্ছে, যার কোনো সত্যতা কোথাও পাবেন না।

২০১৮ সালের পর পরিবারের সদস্যদের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতা না থাকার দাবি করা হলেও ভিন্ন তথ্য মিলেছে

বৈবাহিক জীবন সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা ব্যক্তিগত ব্যাপার। গঠনতন্ত্র বা সেন্ট্রাল যেভাবে তথ্য চেয়েছে, আমার সবকিছু ফুলফিল দেওয়া আছে। সেন্ট্রাল সব যাচাই-বাছাই করে, মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম দেখেই পদ ও কমিটি দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাজিদুর রহমান লিয়নের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তবে সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ওনার (সদস্য সচিব সাজিদুর রহমান লিয়ন) বিরুদ্ধে ধর্ষণের যে মামলার কথা বলা হচ্ছে, ওইটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানিয়ে দেওয়া। মামলা যে কেউ দিতেই পারে, তবে পুলিশ তদন্ত করে সম্পূর্ণ ভুয়া ও মিথ্যা পেয়ে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে দিছে। এই ফাইনাল রিপোর্টের কপি আমরা সেন্ট্রালেও পাঠিয়েছি। আর হিজবুত তাহরীরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য নেই। এ ব্যাপারে আমি সঠিক জানি না।

বিএনপি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন চালানোর চেষ্টা করছে: নাহিদ ইসলাম
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
অবসর বার্তায় যা বললেন রোনালদো
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
শক্তিশালী নায়িকার কারণে কারও যেন চরিত্র হনন না হয়
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা মেডিকেলে দুদক চেয়ারম্যানের অভিযান, বললেন— রোগীরা অনেক …
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
জাহাজের পতাকা জাল করে ইরানকে সহায়তা, ভারতীয় দম্পতির বিরুদ্ধ…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা রোনালদোর
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950