ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে হল সংসদের দেওয়া বই বিক্রির অভিযোগ © টিডিসি ছবি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শহীদ আব্দুর রব হল সংসদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিসিএস প্রস্তুতির জন্য দেওয়া বই চুরি করে কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত রাকিবুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি চাঁদপুর জেলায়।
হল সংসদ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের বিসিএস প্রস্তুতির সুবিধার্থে শহীদ আব্দুর রব হল সংসদের উদ্যোগে হলের রিডিংরুমে কয়েক সেট বই রাখা হয়। তবে কয়েক দিন ধরে সেখান থেকে বই হারিয়ে যেতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে হল সংসদ বইগুলোর খোঁজ করলেও সেগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বই কেনাবেচার ফেসবুক গ্রুপে একটি বিসিএস প্রস্তুতির বই ৪০০ টাকায় বিক্রির জন্য পোস্ট করা হয়। বইটি কেনার বিষয়ে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে কথোপকথনে অভিযুক্ত রাকিবুল হাসানের অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়, ‘৫০০ টাকা দিয়ে আমি বই কিনেছি, ৪০০ সেল করবো।’
অভিযোগকারীদের দাবি, বিক্রির জন্য দেওয়া বইটির একাধিক পাতায় ‘Shaheed Abdur Rab Hall, University of Chittagong’ লেখা হল সংসদের সিল রয়েছে। এছাড়া বইটির বিভিন্ন অংশে কলম দিয়ে ঘষে কালির দাগ দেওয়া হয়েছে। এতে বইটির হল-সংক্রান্ত পরিচয় ও সিল আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
হল সংসদের এজিএস আবু বক্করের দাবি, হল প্রশাসনের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য রিডিংরুমে পাঁচ সেট বিসিএস প্রস্তুতির বই দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় দুই সেট বই হারিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে শহীদ আব্দুর রব হল সংসদের জিএস মনির দাবি করে বলেন, ‘শহীদ আব্দুর রব হল প্রশাসন ও হল সংসদের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের চাকরি প্রস্তুতি সহজতর করতে হলের রিডিংরুমে লক্ষাধিক টাকার বিসিএস, চাকরি ও একাডেমিক বই সংযোজন করা হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান কয়েক দিন ধরে রব হলের রিডিংরুম থেকে বই চুরি করে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর কাছে বিক্রি করছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।
তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে তিনি চুরি করেছেন এমন চারটি বইয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর প্রধান ও প্রথম দায়িত্ব হলো পড়াশোনা করা। সেখানে বই চুরি করে বিক্রি করার মতো হীন কাজ অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি যেসব বই চুরি করেছেন, সেগুলোর জন্য অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ড করার সাহস না পায়।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাকিবুল হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।