যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় । © রয়টার্স
ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলাচলে সহায়তা করতে বিভিন্ন দেশের জাহাজ নিবন্ধন ও জাতীয় পতাকার পরিচয় জাল করার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় এক দম্পতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই দম্পতি, তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ভারতীয় এক দম্পতি বিভিন্ন দেশের জাহাজ নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের পরিচয় জাল করে ইরানের তেলবাহী নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাংকারগুলোকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে চলাচলে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে তুরস্কভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান ইরানের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কয়েকটি বিমান সংস্থাকে সেবা দিয়ে আসছিল।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক দপ্তর (ওএফএসি) এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্যমতে, চণ্ডীগড়ভিত্তিক ব্যবসায়ী সুনীল কুমার শর্মা ও তাঁর স্ত্রী জসপ্রীত প্রীতি শহীদ এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। তাঁদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আরও দুই ভারতীয় নাগরিক এবং শর্মার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ট্রেজারির অভিযোগ, এই দম্পতি গায়ানা, এসওয়াতিনি ও লাওসসহ বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতেন। এসব দেশের অনুমোদন ছাড়াই তাঁরা জাহাজের ভুয়া জাতীয় পতাকা, নিবন্ধন ও সনদপত্র তৈরি করতেন। এর মাধ্যমে ইরানের তেল পরিবহনকারী নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাংকারগুলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলাচল করতে পারত।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব জাহাজের কয়েকটি ইরানের সামরিক বাহিনী ও দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হয়ে কাজ করছিল। অন্তত ২০১৪ সাল থেকে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। সরকারি জাহাজ নিবন্ধন ওয়েবসাইটের আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।
তুরস্কের বিমানসেবা প্রতিষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা
ভারতীয় নেটওয়ার্কের পাশাপাশি তুরস্কভিত্তিক ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারির অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের কয়েকটি বিমান সংস্থাকে বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। এসব সংস্থার মধ্যে ইরান এয়ার ট্যুর ও সাহা এয়ারলাইনস রয়েছে।
এদিকে, ভুয়া জাতীয় পতাকা ব্যবহারকারী জাহাজের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক দপ্তর। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, স্থল, সমুদ্র কিংবা আকাশপথে যারা ইরান সরকারকে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের আওতাধীন সম্পদ জব্দ করা হবে। পাশাপাশি সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের আর্থিক লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের তেল বিক্রি থেকে অর্জিত আয় বন্ধ করে দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত করা।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের দাবি, এ অভিযানের প্রভাবে ইরানের অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের বিনিময়মূল্য রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে গত সপ্তাহে জানিয়েছিল বিভাগটি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এক দিন পর বুধবার নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির বিষয়টি নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স।