বিশ্ববিদ্যালয় দিল ৩৫ লাখ, ডাকসু করল ৩৫ কোটি টাকার কাজ

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৭ PM , আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩ PM
ডাকসু ভবনের সামনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা

ডাকসু ভবনের সামনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের এক বছর পেরিয়ে গেছে। ছাত্রশিবিরের সাদিক কায়েম ও এসএম ফরহাদ নেতৃত্বাধীন এই ডাকসুর মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর। বছর পেরোতেই ডাকসুর কাজের মূল্যায়ন শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ডাকসু নেতাদের দাবি, সীমিত সুযোগেও শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তারা। বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাত্র ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও এই এক বছরে ডাকসু কাজ করেছে ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে স্পন্সর যোগাড় করে এসব কাজ করা হয়েছে; যা ছাত্র সংসদটির কৃতিত্ব হিসেবেই মনে করছেন তারা। 

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাদিক-ফরহাদ নেতৃত্বাধীন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতেই বিজয় অর্জন করে। বুধবার এই নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ছিল। তবে ডাকসু নেতারা শপথ নেন ১৪ সেপ্টেম্বর।

তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত ডাকসু শিক্ষার্থীদের আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, প্রযুক্তি ও ক্যারিয়ারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক হলের রিডিংরুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বিভিন্ন হলে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি, ছাত্রীদের জন্য জিমনেসিয়াম, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক চাকরির সুযোগ তৈরির মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। যদিও ব্যর্থতার পরিমাপও করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেকে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে ডাকসু নেতাদের সঙ্গে দ্বিমত রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

ডাকসুর যত প্রজেক্ট
ডাকসুর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আশানুরূপ বাজেট বা সহযোগিতা না পেলেও তারা বিভিন্ন কর্পোরেট স্পন্সর এবং নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার ফান্ড সংগ্রহ করে ছোট-বড় প্রায় ১,০০০টি উদ্যোগ ও কাজ বাস্তবায়ন করেছেন।

তথ্য বলছে, ডাকসু পরোক্ষভাবে সবচেয়ে বড় কাজটি করেছে অবকাঠামো ও আবাসন উন্নয়নে। কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় অর্জনের মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার বাজেটে পাঁচটি হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে সম্মতি আদায় এবং চীনা সহযোগিতায় ১ হাজার ৫০০ ছাত্রী ধারণক্ষমতার নতুন আরেকটি ছাত্রী হল নির্মাণের উদ্যোগ। এর পাশাপাশি বিভিন্ন আবাসিক হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) স্থাপনে প্রায় ৬ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে।

ছাত্রীদের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জিমনেশিয়াম

আবাসনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠের উন্নয়নে প্রায় তিন কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে তিন কোটি টাকা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক মুসা খাঁ মসজিদ সংস্কারে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। মেয়েদের জিমনেশিয়ামের উন্নয়নে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে। এছাড়া আবাসিক হলগুলোতে কম্পিউটার ও অন্যান্য ল্যাব স্থাপনে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের বিদায়ী চিঠিতে যা লিখলেন ডাকসু ভিপি

এরপরই রয়েছে পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো। শিক্ষার্থীদের পরিবহনসেবা উন্নয়নে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে, যেখানে নতুন কয়েকটি রুটসহ কুমিল্লা পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু করা হয়। স্বাস্থ্য খাতে মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামো সংস্কারে প্রায় তিন কোটি টাকা এবং তুর্কি কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সির (টিকা) সহযোগিতায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে অ্যাম্বুলেন্স, এক্স-রে, ইসিজি মেশিন ও সংস্কারকাজ করা হয়।

এ ছাড়া ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ফার্স্ট এইড বুটক্যাম্প এবং কয়েকটি মেডিকেল ক্যাম্পে পাঁচ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীকে ফ্রি মেডিকেল সেবা প্রদানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে আরও কয়েক লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। একই সাথে হলভিত্তিক মোট ১৮ বার ছারপোকা নিধনে ওষুধ প্রয়োগ, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৭০-এর বেশি শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা দেয়া হয়েছে।

আমরা যে বাজেট পেয়েছি, সেই বাজেটের চাইতে ১০০ গুণ বেশি কাজ করেছি। আমাদেরকে বাজেট দেওয়া হয়েছিল ২৫ লাখ টাকা, পরবর্তীতে একদম সর্বশেষ পর্যায়ে এসে আরও ১০ লাখ টাকা দিয়েছে। কিন্তু আমরা ইতোমধ্যে হিসাব করলাম—প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ আমরা করেছি। এটা আরও বাড়বে। এটি হয়েছে শুধুমাত্র স্পন্সর ম্যানেজ করে। এর বাইরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮-৪৯ কোটি টাকার একটা প্রকল্প উদ্বোধন হয়েছে। এরকম অনেক বড় বড় প্রকল্প, চায়না সরকার একটা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য হল তৈরি করে দিচ্ছে, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি— সাদিক কায়েম, ভিপি, ডাকসু

ডাকসুর কার্যক্রমের মধ্যে আরও রয়েছে বিভিন্ন সেমিনার, সামিট ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। এসব ক্ষেত্রে ডাকসুর সম্পাদকরা প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনামূল্যে বিভিন্ন কোর্সে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। একই সাথে জব ফেয়ারের মাধ্যমে চীনের ৩১টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪৩০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সাতটি প্রসিদ্ধ জার্নালে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে অ্যাক্সেসের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

কয়েকদিন আগেই ডাকসুর উদ্যোগে হেলথ ক্যাম্প আয়োজন করা হয়

চীনা সহযোগিতায় ১৫০০ ধারণক্ষমতার নতুন আরেকটি ছাত্রী হল নির্মাণের উদ্যোগ এবং ৬৫ লাখ টাকা অর্থায়নে মেয়েদের জিমনেশিয়ামের উন্নয়নের পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কলাভবনে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, মেয়েদের কমনরুমে এসি স্থাপন, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি সংস্কার, প্রায় এক হাজার নারী শিক্ষার্থীকে হিজাব উপহার, মাতৃত্বকালীন ছুটি, ছাত্রী হলগুলোতে বিনামূল্যে ১০ হাজারের অধিক স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করেছে ডাকসু। এ ছাড়া ডাকসুর দ্বিতীয় কার্যনির্বাহী সভায় শেখ হাসিনার আজীবন সদস্যপদসংক্রান্ত এখতিয়ারবহির্ভূত রেজুলেশন বাতিল করা হয়।

আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও
ডাকসুর এসব কার্যক্রমকে যেমন সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, তেমনি আছে সমালোচনাও। সব মিলিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বলছেন, নির্বাচনের আগে বিশাল প্রত্যাশার যে ইশতেহার দেখানো হয়েছিল, তার অনেক কিছুই পূরণ করতে পারেনি ডাকসু।

ঢাবি শিক্ষার্থী ইফতেখার হাসান তানভীরের মতে, বর্তমান ডাকসু এখন পর্যন্ত বেশ সফলভাবেই দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কার, দ্রুত সময়ে হলের সিট প্রদান, মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগ নিচতলায় স্থানান্তরের উদ্যোগ এবং ছাত্রীদের জন্য জিমনেসিয়ামের ব্যবস্থা—এসব শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, ছয়টি হলের জন্য প্রায় ২৮০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প আনা একটি বড় উদ্যোগ। তবে হলের খাবার, আবাসন ও পরিবহনসহ কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। চলমান কাজগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে ডাকসুর প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

তবে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডাকসুর কার্যক্রম নিয়ে তুলনামূলক অসন্তোষ রয়েছে। মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র নায়েম ইসলাম সিয়াম বলেন, এফবিএসে ডাকসুর তেমন কোনো কার্যক্রম তার চোখে পড়েনি। ই-লাইব্রেরি সংস্কার করে চালু করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। লিফট মেরামতের বিষয়টিও সমাধান হয়নি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জব ফেয়ার, বিজনেস কেস স্টাডি, বিজনেস কম্পিটিশন ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়নি।

এ ছাড়া ক্লাসরুম সংকট সমাধানের বিষয়টিও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানান তিনি। তার মতে, এফবিএসের তুলনায় কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ডাকসুর কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান।

একই ভাবে অসন্তোষ আছে সমাজকল্যাণ বিভাগের পরিবহন ও কমনরুম নিয়েও। এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মতামতেও ডাকসুর সাফল্য ও সীমাবদ্ধতার মিশ্র চিত্র পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা জানান, আগে সমাজকল্যাণ বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাস ছিল না। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ একটি বাসের ব্যবস্থা করলেও বর্তমানে অধিকাংশ সময় শিক্ষার্থীরা ওই বাসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এই কাজগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ছিল, এটা রাষ্ট্রের ছিল এবং আমাদের এখানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নামে একটা কর্পোরেশন আছে, তাদের ছিল। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি সব জায়গায় লুটপাট ছাড়া আর কিছু নাই। তাদের এই রাষ্ট্র নিয়ে, সমাজ নিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাদের ভাবনা নাই— সাদিক কায়েম, ভিপি, ডাকসু

এ ছাড়া ছাত্রীদের কমনরুমের বিষয়টি ডাকসুর ইশতেহারে থাকলেও গত তিন থেকে চার মাস ধরে সেটি বন্ধ রয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। কমনরুমের ওয়াশরুমও ব্যবহার অনুপযোগী বলে অভিযোগ তাদের। এ ক্ষেত্রে ইনস্টিটিউট প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলেও মনে করেন তারা। একই সঙ্গে সমাজকল্যাণ বিভাগের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা থাকলেও সমস্যাটি এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি বলে জানান তারা।

নানা উদ্যোগ নিয়ে এসব সমালোচনার মধ্যে ডাকসুকে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের মোকাবেলা করতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছেন, ছাত্র সংসদের কিছু নেতৃবৃন্দ লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলে অবস্থান নিলেও পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

কলা অনুষদের শিক্ষার্থী মিরাজ মজুমদার বলেন, ডাকসু প্যানেল দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে কিনা এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৯৭১-এর বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিতর্কিত বয়ান তৈরির মতো বিষয়গুলোও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ভালোভাবে নেয়নি।

আরও পড়ুন: বিনামূল্যে সেবা নিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫০০ শিক্ষার্থী

আমাদের নয়, কাজগুলো করার দরকার ছিল বিশ্ববিদ্যালয়-সিটি কর্পোরেশনের
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম তাদের কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে বলেন, আমরা যে বাজেট পেয়েছি, সেই বাজেটের চাইতে ১০০ গুণ বেশি কাজ করেছি। আমাদেরকে বাজেট দেওয়া হয়েছিল ২৫ লাখ টাকা, পরবর্তীতে একদম সর্বশেষ পর্যায়ে এসে আরও ১০ লাখ টাকা দিয়েছে। কিন্তু আমরা ইতোমধ্যে হিসাব করলাম—প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ আমরা করেছি। এটা আরও বাড়বে। এটি হয়েছে শুধুমাত্র স্পন্সর ম্যানেজ করে। এর বাইরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮-৪৯ কোটি টাকার একটা প্রকল্প উদ্বোধন হয়েছে। এরকম অনেক বড় বড় প্রকল্প, চায়না সরকার একটা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য হল তৈরি করে দিচ্ছে, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

কেন্দ্রীয় মসজিদে এসির ব্যবস্থা করেছে ডাকসু

ভিপি বলেন, আমরা লাস্ট যেটা হেলথ ফেস্ট করেছি, সেটার যদি আর্থিক মূল্য হিসাব করি, প্রায় ১ কোটি টাকার উপরে। যারা এখানে এসেছেন, ডাক্তাররা এসেছেন—তাদেরকে ৬ মাস, ১ বছরে তাদের সিরিয়াল পাওয়া যায় না। কিন্তু সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা এখানে এসেছেন, তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য এসেছেন এবং এটাও ঘোষণা দিয়েছেন, পরবর্তী ফলোআপের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ডাকসুর কথা বললে সম্পূর্ণ ফ্রিতে তাদের ট্রিটমেন্ট করা হবে, ফলোআপ করা হবে। যারা এসেছেন, তারা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গেলে তাদেরকে সার্বিকভাবে শুধুমাত্র তাদের ট্রিটমেন্ট না, একই সাথে তাদের বিভিন্ন টেস্ট এবং তাদের মেডিসিনকেন্দ্রিক সাপোর্টও দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতায় ছাত্রলীগের গেস্টরুম-গণরুম নির্যাতনের চিত্র ডাকসুর গ্রন্থে

তবে ডাকসুর কাজগুলো সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব ছিল বলেও অভিযোগ করেন সাদিক কায়েম। বলেন, এই কাজগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ছিল, এটা রাষ্ট্রের ছিল এবং আমাদের এখানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নামে একটা কর্পোরেশন আছে, তাদের ছিল। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি সব জায়গায় লুটপাট ছাড়া আর কিছু নাই। তাদের এই রাষ্ট্র নিয়ে, সমাজ নিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাদের ভাবনা নাই।

দায়িত্ব শেষ হওয়ার দিন প্রতিনিধি সংবর্ধনার মাধ্যমে পুরো বছরের কাজের হিসাব তুলে ধরা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বলেন, আমরা পুরো বছর জুড়ে কী কী কাজ করেছি, আমরা জাতির কাছে, আপনাদের কাছে দেখিয়ে দেব। আমাদের ইশতেহার কী কী ছিল, ইশতেহারের বাইরে যে আমরা অসংখ্য কাজ করেছি—সেটা আমরা দেখিয়ে দেব। আমাদের ওভারঅল আয়-ব্যয়ের হিসাব, সেটা আপনাদেরকে দেখাব।

ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক ডাকসু ভিপি-জিএসের সাথে কথা বলেছি। ওই সময়ে কমন একটা ট্রেন্ড ছিল নেতারা কাকে ফ্যাসিলিটেট করবে, কাকে কর্নার্ড করবে, মধুর ক্যান্টিন দখল করবে—এ ধরনের একটি পলিটিক্যাল কম্পিটিশন ছিল। ওই সময়ে কয়েকটা ম্যাগাজিন, কালচারাল প্রোগ্রাম এবং সেমিনার-সিম্পোজিয়াম ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু আইওয়াশ মুভমেন্ট—এগুলো রেগুলার ট্রেন্ড ছিল। এখানে রাজনৈতিক আধিপত্যের ট্রেন্ড ছিল।

তিনি বলেন, আমাদের প্যানেলে বাম, সাধারণ এবং স্বতন্ত্র প্যানেল থেকেও প্রতিনিধি এসেছে। অনেক হলে ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদলের প্রতিনিধিরা এসেছে। একরকম কম্বাইন্ড প্রতিনিধিত্ব ছিল। আমরা নিজেরাও এটিকে নিজেদের দলের অফিসে রূপ নিতে দেইনি। আমরা চেষ্টা করেছি ডাকসুকে শিক্ষার্থীদের জন্য বানাতে।

জুলাই বিপ্লব স্মরণে ২৯টি গল্প সম্বলিত স্মারক গ্রন্থ ও ৯টি উ…
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম, সাধারণ সম্পাদক সজীব
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডাকসুর উদ্যোগ: দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইলে…
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন বরণ ও ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ পুলিশে ১৬তম গ্রেডে চাকরি, আবেদন ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুই বছর পর্যন্ত কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশি
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9