রামেকে শিবির সভাপতি
বক্তব্য রাখছেন ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম © সংগৃহীত
দেশে নবীন চিকিৎসকদের আর্থিক দুরবস্থা ও সংগ্রামের কথা শুনে বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। অন্যান্য পেশায় চাকরি জোটাতে পারলে যেখানে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা বেতন পাওয়া যায়, সেখানে নবীন চিকিৎসকদের ৩০ হাজার টাকা বেতনের চাকরিও নসিবে জোটে না বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় চরম দৈন্যদশা বিরাজ করছে বলেও মন্তব্য করেছেন সাদ্দাম। বলেছেন, চিকিৎসা নিতে গিয়ে দেশের ৮৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির এবং ৬৩ শতাংশ মানুষ দালালের শিকার হচ্ছেন।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) সেন্ট্রাল মসজিদ মাঠে আয়োজিত এক নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শাখা ছাত্রশিবির এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নবীন ও তরুণ চিকিৎসকদের কর্মজীবনের আর্থিক চরম দূরবস্থা ও হতাশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডাক্তার আছে অনেক। কিন্তু কোয়ালিফাইড ডাক্তার হতে গেলে আপনাকে অনেক বেশি সময় দিতে হয়, অনেক স্ট্রাগল করতে হয়। জিনিসগুলো ডাক্তারদের কাছে শুনে আমি নিজেই বিমর্ষ হয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা যখন লেখাপড়া শেষ করে যদি কোনভাবে চাকরি একটা বাধাতে পারি, তাহলে আমাদের নূন্যতম বেতন ৪০-৪৫ হাজার টাকা হয়। কিন্তু একটা মেডিকেল পাশ করা ছাত্রের নাকি ৩০ হাজার টাকা বেতনের চাকরিও তার নসিবে জোটে না অর্থাৎ তাকে ইন্টার্ন করার সময় একজন ফুল ফেজে পাঁচবছর পাস করা একটা ছেলে তাকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। যদি বিসিএস হয়, তার পোস্টিং যে এলাকায় দেয়, যে বেতন তাকে দেয় তার জীবনটা চলা খুব কঠিন।
এ সময় স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও বাণিজ্যিকীকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেকানিজমের সাথে যারা জড়িত, টেস্ট দেয়, রোগীকে অসংখ্য টেস্টের কথাগুলো উঠে আসে বারবার। আমরা তো বিভিন্ন ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে দেখি- প্রচুর মাল সামানা, প্রচুর জিনিসপত্র দেয়া, এসি, ফ্রিজ, বাড়ি বানিয়ে দিচ্ছে, ফ্লাট দিয়ে দিচ্ছে, শর্ত হচ্ছে— তার কোম্পানির ওষুধ লিখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মনুষত্ববিহীন কিছু ডাক্তার তো আছে, মানবিক ডাক্তার আছে, কিন্তু মানবিকতা মানুষের মধ্যে তো থাকতে হবে। আমরা মানুষের মত মানুষের সংখ্যা অনেক কম দেখতে পাই, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। যার ফলে যত শিক্ষিত হয়, তত করাপ্টেড মানুষের জন্ম হয়।
দেশে চিকিৎসকের স্বল্পতা ও বাজেটের অপর্যাপ্ততার কথা তুলে ধরে শিবির সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে এভারেজে ১ হাজার মানুষের চিকিৎসার জন্য ৮০.৮৪ শতাংশ ডাক্তার আছে। মাঝে মাঝে হিসেব করে কিছু কিছু রিপোর্টে দেখতে পাই যে ১২০০ মানুষের জন্য একটা ডাক্তার। কোন হিসাব বলে ১৮০০ মানুষের জন্য একটা ডাক্তার। প্রকৃত হিসাব জানি না, কারণ এই গণনায় ভুল থাকতে পারে। তবে বাংলাদেশে ডাক্তারের স্বল্পতা আছে।
তিনি বলেন, ২০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের বাজেটের এক শতাংশ মাত্র বরাদ্দ থাকে। এ বছর একটু বাড়িয়ে বাজেট করা হয়েছে ৬৯ হাজার ৪শ ৪৮ কোটি টাকা। এটা ২০ কোটি মানুষের জন্য অনেক অপ্রতুল। বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো যেভাবে ক্রপ করেছে, সরকারি মেডিকেল কলেজগুলো সেভাবে ক্রপ করতে পারেনি। এখানে করাপশনের (দুর্নীতি) পরিমাণ অনেক হাই।
স্বাস্থ্য খাতের বাজেটে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে যা বাজেট হয়, ৬৯ হাজার কোটি টাকার কথা বললাম। আপনাদের কি মনে হয় ৬৯ হাজার কোটি টাকাই আমাদের দেশের এই স্বাস্থ্য খাতের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্টের জন্য ব্যয় হয়। এখানে মোর অর লেস এই বাজেটের ৫০% স্যাংশনের আগেই কাটাকাটি হয়ে যায়, মন্ত্রণালয়ের ভাগাভাগি হয়। এরপরে নিচ পর্যন্ত আসতে এর ভাগবাটোয়ারা জনগণের কাছে আসলেই খুব বেশি পৌঁছায় না।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি রমিজ মুত্তাকীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডাকসুর জিএস ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ, রাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. ফাতেমা সিদ্দিকা, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) নিউরোসার্জরি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রুহুল কুদ্দুস এবং রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির।