‘চাঁদা না পেয়ে’ যুবদল নেতাকে পেটালেন ছাত্রদলের ৩ নেতা

১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৩ AM
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের অভিযোগ

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের অভিযোগ © সংগৃহীত

রাজশাহীর বাগমারায় যুবদলের এক নেতাকে পিটিয়ে জখম ও তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের তিন নেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার গোয়ালকান্দি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতারা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ব্যবসা নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।

আহত আসাদুল ইসলাম (৩৮) গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা কমিটির সদস্য। তিনি ডিশ ব্যবসার (ক্যাবল টিভি ও ইন্টারনেট) সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অভিযুক্ত তিনজন হলেন নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন এবং গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম। তাদের সবার বাড়ি গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে।

আসাদুল ইসলামের অভিযোগ, ঘটনার সময় তিনি গোয়ালকান্দি বাজারে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। রাত ১০টার দিকে পারভেজ রানার নেতৃত্বে চার-পাঁচজন ছাত্রদল নেতা সেখানে যান। এ সময় ডিশ ব্যবসা নিয়ে তাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা লাঠি ও রড দিয়ে তাকে মারধর করেন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুর করা হয়।

আসাদুলের দাবি, তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার সময় পাশে থাকা এক তরুণ তার মুঠোফোন দিয়ে ফেসবুকে লাইভ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন: বাঁচানো গেল না জবি ছাত্রদল নেতা নিক্সনের স্ত্রীকে, বাঁচেনি গর্ভের সন্তানও

শুক্রবার সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে আসাদুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পারভেজ রানার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এর জেরেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পারভেজ রানা। তার দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আসাদুল ইসলাম ফাহিমা নামের এক নারীর ডিশ ব্যবসা দখল করে নেন। এ নিয়ে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও বিষয়টির সুরাহা হয়নি।

পারভেজ রানা বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য ফাহিমা আসাদুলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যান। তিনি পারভেজ, সুমন ও শাহীনকেও সঙ্গে নেন। সেখানে আলোচনা চলার সময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আসাদুল ফাহিমার ওপর চড়াও হন এবং তাকে হেনস্তা করেন। তখন তারা ফাহিমাকে উদ্ধার করেন।

পারভেজ রানা আরও বলেন, ‘আসাদুলের সঙ্গে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ নেই।’ তার দাবি, পরে আসাদুল নিজের ছেলেকে দিয়ে ফেসবুক লাইভে মিথ্যা ঘটনা প্রচার করেছেন।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহব্বত হোসেন বলেন, আমি ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছি। পরে এলাকায় খোঁজ নিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমি জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলবো। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ বা মামলা হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে ভিডিও ধারণ, নিচে পড়ে গুরুতর আহত দশম …
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
পিএসসিকে দলীয়করণের অপচেষ্টা জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার প…
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
বিটিভির স্ক্রলে ইশরাকের পদত্যাগ নির্দেশের খবর
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
কার্যকর হলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে, পদত্যাগ ইস্যুতে ফের …
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেশনাল মাস্টার্সে ভর্তি আবেদন শুরু…
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
বিএনপি অ্যাক্টিভিস্টরা বিপদে—গতকালই ইশরাকের কাজকে বাহাবা দি…
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬