বাবলী আখতার সীমা, নিপা আক্তার, তৈয়বা ত্বাহা, হাওয়া আক্তার তোহা, জান্নাতুল ফেরদৌস এবং আন্নু মালা (বাঁ থেকে) © টিডিসি সম্পাদিত
মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় গত ১১ এপ্রিল রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় সংসদ। বিলুপ্তির তিন মাস পর নতুন করে কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। নতুন কমিটিতে পদ পেতে দৌড়ঝাঁপও শুরু করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে এই কমিটি গঠনের সম্ভাবনা দেখছেন তারা। এজন্য পদপ্রত্যাশীদের আনাগোনা বেড়েছে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে মেধাবী, শিক্ষার্থীবান্ধব এবং অধ্যয়নরত নেত্রীদের চাইলেও সভাপতি পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন অছাত্র ও বিবাহিতরা। সভাপতি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন সন্তানের জননী এবং বহিরাগত এক ছাত্রীও।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের একটি সূত্র অনুযায়ী, সভাপতি পদপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন— তৈয়বা ত্বাহা, হাওয়া আক্তার তোহা (তোহা আমিন), বাবলী আখতার সীমা, নিপা আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস এবং আন্নু মালা।
এরমধ্যে তৈয়বা ত্বাহা বাংলা বিভাগের ২০১৮-২০১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজের জেবুন্নেসা হলের আবাসিক ছাত্রী। এর আগে তিনি বান্দরবান জেলা ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক। তিনি বিএনপি পরিবারের সন্তান এবং ছোটবেলা থেকে তার মননে গাঁথা জাতীয়তাবাদী আদর্শ।
তৈয়বা ত্বাহা ছাত্রী ও নারীদের জন্য গড়ে তুলেছেন সামাজিক সংগঠন ‘নারীর অভিযাত্রা’। সংগঠনটির চেয়ারম্যানও তিনি। সামাজিক ও কল্যাণমূলক নানা কার্যক্রমে যুক্ত ইডেন মহিলা কলেজে পরিচিত মুখদের মধ্যে অন্যতম তৈয়বা ত্বাহা। রাজপথের লড়াই সংগ্রামে ছিলেন সম্মুখযোদ্ধা।
হাওয়া আক্তার তোহা সরকারি বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের ২০১১-১২ সেশনের ছাত্রী ছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর তিনি ইডেন কলেজে মাস্টার্সে ভর্তি হন। তিনি এখনও বোটানি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।
সভাপতি পদপ্রত্যাশী আরেক ছাত্রদল নেত্রী বাবলী আখতার সীমা ইডেন কলেজের ডিগ্রি পাস কোর্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযোগ, ২০১৬-১৭ সেশনে তিনি মাস্টার্সে ভর্তি হন, তবে এখনও মাস্টার্স শেষ করতে পারেননি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। এ ছাড়া তিনি সন্তানের জননী বলে অভিযোগ সংগঠনটির নেতাকর্মীদের।
বিলুপ্ত কমিটির পদধারী নেত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস এবারের কমিটিতে সভাপতি পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। আগের কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন তিনি। তবে তিনি ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীই নন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত জীবনে তিনিও বিবাহিত। সভাপতি পদের দৌড়ে রয়েছেন কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী নিপা আক্তারও। কলেজের হাসনা বেগম হলের আবাসিক এই ছাত্রী নানা কারণে নিজের ব্যাচের সঙ্গে অনার্স শেষ করতে পারেননি এবং ২০২৫ সালে অনার্স সম্পন্ন করেন।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইডেনের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আরেক ছাত্রী আন্নু মালা। রাবেয়া বসরী হলের আবাসিক ছাত্রী আন্নু মালা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রদলের যুক্ত হয়েছেন।
আগে থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতে যুক্ত থাকা এবং ক্যাম্পাসে পরিচিত সামাজিক সংগঠনের চেয়ারম্যান হওয়ায় ভালো ফেসভ্যালু রয়েছে বলে দাবি সভাপতি পদপ্রত্যাশী তৈয়বা ত্বাহার। তিনি বলেন, আমি অনেক আগে থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত। স্থানীয়ভাবেই আমি সংগঠন করে এসেছি। ফলে কলেজ ছাত্রদলের ক্ষেত্রে আমি আশাবাদী। এ ছাড়া আমি সবসময় নারীদের নিয়ে কাজ করেছি, হিউম্যান রাইটস নিয়ে কাজ করি। আমার একটা সংগঠনও আছে ক্যাম্পাসে খুবই পপুলার। সম্প্রতি একটা এনজিও করার জন্য আবেদনও করেছি।
তিনি বলেন, ছাত্রী এবং নারীদের সমস্যা সমাধানে সব সময় কাজ করার চেষ্টা করি। আশা করি সংগঠন আমাকে মূল্যায়ন করবে।
জানতে চাইলে আন্নু মালা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, ছাত্রজীবনের শুরু থেকে আবাসিক হলে থাকায় ওই সময়ে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারেননি। তিনি বলেন, আমি যখন হলে, তখন এটি ছিল ছাত্রলীগের অধীনে। ছাত্রদলের আপুদের হল থেকে মেরে বের করে দিয়েছিল। আপুরা ক্যাম্পাসে আসতে পারত না। এজন্য আমার কোনো সোর্স ছিল না ছাত্রদলে যুক্ত হওয়ার। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমি যুক্ত হয়েছি।
সভাপতি পদে আশাবাদী নিপা আক্তারও। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছি, রাজপথে ছিলাম। সেই ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর এরপর ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন আর জুলাই আন্দোলন। সবখানেই সম্মুখসারিতে ছিলাম। দলীয় সকল প্রোগ্রামে সক্রিয়ভাবেই অংশগ্রহণ করি। এজন্যই আশাবাদী যে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।
জানতে চাইলে হাওয়া আক্তার তোহা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের সাথে যুক্ত। আমার পরিবার বিএনপি সমর্থন করে। বাবাকে দেখতাম সব সময় শহীদ জিয়া এবং বেগম জিয়াকে নিয়ে বলত। পরে ক্যাম্পাসে আসার পর তখনকার যে ছাত্রলীগের রাজনীতি দেখেছি, তাকে রাজনীতি বলতে পারিনি। তবে কখনো পদ-পদবীর চিন্তা করিনি, তাই কোনো কমিটিতে আসা হয়নি।
এদিকে নিজের অনার্স সেশন ২০১৬-১৭ বলে দাবি করেছেন বাবলী আখতার সীমা। জানান, হিসাববিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স করছেন। বিয়ের কথা স্বীকার করলেও সন্তান থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি। বলেন, হাসিনার সৈরাচারী রূপ দেখে আমার বাবা আমাকে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই সূত্রে রাজনীতিতে আসা। ভালো ফ্যামিলি থেকে একটা মেয়ে রাজনীতিতে আসা কঠিন। তারপরও আমি চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, ভালো ফ্যামিলি থেকে একটা মেয়ে রাজনীতিতে আসা কঠিন। তারপরও আমি চেষ্টা করছি। আমরা না আসলে তো অন্য মানুষরা আসবে, এটা খারাপ হবে।
আরেক পদপ্রত্যাশী জান্নাতুল ফেরদাউসের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।