ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা তারেকুজ্জামান তারেক © সংগৃহীত
গাইবান্ধা জেলা শহরে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা তারেকুজ্জামান তারেকের ওপর এক মাদক ব্যবসায়ী বার্মিজ ছুরি দিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের পলাশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পলাশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে গাইবান্ধা ক্লিনিক পর্যন্ত এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চলছিল। এলাকার যুবসমাজ ও সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় এই অবৈধ কার্যক্রমের তীব্র প্রতিবাদ করেন তারেকুজ্জামান তারেক। তার এই প্রতিবাদের জের ধরেই এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বার্মিজ ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে।
ভুক্তভোগী তারেকুজ্জামান তারেক জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার বিষয়টি গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসিকে একাধিকবার অবহিত করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসন রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
তারেকুজ্জামান বলেন, আমি কয়েকবার থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছি। ওসি সাহেবকে জানিয়েছি কোথায় কোথায় মাদক বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো মাদক ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আজ তারা প্রকাশ্যে আমার উপর হামলা চালালো।
শহরের প্রাণকেন্দ্রে এমন প্রকাশ্য ও নৃশংস হামলার ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে মাদকের এই চিত্র দেখছি। যুবকরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ কিছুই করছে না। আজ একজন নেতার উপর হামলা করল, কাল হয়তো সাধারণ মানুষকেও হামলার শিকার হতে হবে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রিনা বেগম বলেন, আমাদের বাচ্চারা স্কুলে যাওয়ার পথে মাদক ব্যবসায়ীদের দেখে। এটা খুবই ভয়াবহ। প্রশাসনের এখনই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ঘটনার গুরুতর অভিযোগ এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গাইবান্ধা সদর থানার ওসি ও ডিবি পুলিশের ওসির সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে হামলাকারী মাদক ব্যবসায়ী ও এর পেছনের মদতদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।