ঢাকা কলেজ ছাত্রদল
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক পাঠাগার সম্পাদক তানভীর আহমেদ © টিডিসি সম্পাদিত
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পাননি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘গুমের শিকার’ সাবেক পাঠাগার সম্পাদক তানভীর আহমেদ। এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে মঙ্গলবার (৫ মে) ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তিনি। এতে গুপ্তদের নিয়ে কমিটি করার অভিযোগ করেছেন ছাত্রদলের এ নেতা।
ফেসবুক পোস্টে ‘তেলবাজি, গ্রুপিং এবং আর্থিক লেনদেনের’ মাধ্যমে কমিটি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তানভীর আহমেদ। একইসঙ্গে বিগত সময়ে ব্যানার ধরার লোক না থাকলেও ‘ভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী, গুপ্ত ও আন্দোলন সংগ্রামে সম্পৃক্ত না থাকা ব্যক্তিদের’ নিয়ে নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে বলে পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন।
ফেসবুকে তানভীর আহমেদ লেখেন, ‘আমি কৈশোর কাল থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ধানের শীষের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজপথের রাজনীতি করেই আমার বেড়ে ওঠা। রাজনৈতিক জীবনে কখনো অবৈধ কোনো সুবিধা গ্রহণ করিনি—এ কথা আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি। দীর্ঘ পথচলায় আমার প্রাপ্তি বলতে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক পদটুকুই।’
তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর আমাকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে এবং পরবর্তী চার দিন গুম করে রাখা হয়। এ সময় অমানবিক নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক টর্চারের শিকার হই। এমনকি পা মেলে বসার সুযোগও দেওয়া হয়নি।’
‘নির্যাতনের ফলে আমাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মিডিয়ার সামনে হাজির করা হয়, যেখানে ডিবি সদস্যদের কাঁধে ভর করে দাঁড়াতে হয়েছিল।ফ্যাস্টিটের স্বৈরাচারী শাসন আমল শেষ না হলেও এমন দুর্বিষহ জীবনই থাকতো হয়তো, জানি না, এখন যারা কমিটিতে এসেছেন তাদের কি অবস্থান ছিল বিগত বছর’, যোগ করেন তিনি।
মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেওয়া হয় উল্লেখ করে তানভীর বলেন, ‘দুই মাস কারাবাস, ব্যানার ধরার লোক ছিল যখন না, তখন ছিলাম অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে। দীর্ঘ সময়জুড়ে আর্থিক, মানসিক ও শারীরিকভাবে চরম ত্যাগ স্বীকার করার পরও আমি প্রত্যাশিত মূল্যায়ন পাইনি। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটিতে আমার কোনো স্থান হয়নি, এমনকি এ বিশাল কমিটিতেও আমার মতো ছোট এক কর্মীর স্থান হয়নি।’
আরও পড়ুন: তিতুমীরে হল কমিটি ছাত্রদলের, পদ পাওয়া নেত্রীরাও বলছেন—‘আমরা রাজনীতি চাই না’
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের এ নেতা আরও বলেন, ‘এমন অনেক ব্যক্তি কমিটিতে স্থান পেয়েছেন, যাদের রাজপথে কখনো দেখা যায়নি, দেখা যায়নি আন্দোলন সংগ্রামেও, যাদের মধ্যে রয়েছে তেলবাজি, গ্রুপিং এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে উঠে আসা ব্যক্তিরা। এমনকি পূর্বে ভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর গুপ্ত কতজন আছে তার হিসাব নেতৃবৃন্দই জানে।’
এ প্রেক্ষাপটে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন উল্লেখ করে তানভীর বলেন, ‘ত্যাগী ও নিবেদিত কর্মীরা যদি বারবার উপেক্ষিত হন এবং অযোগ্য বা সুবিধাবাদীরা মূল্যায়িত হন, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব সংগঠনের ভবিষ্যতের ওপর পড়বে।’
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ডিবি পুলিশের তৎকালীন প্রধান হারুন অর রশিদের সংবাদ সম্মেলনের ভিডিওতে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক পাঠাগার সম্পাদক তানভীর আহমেদকে দেখা যায়। এতে নিউমার্কেটে বাস পোড়ানোর অভিযোগ তোলা হয় তার বিরুদ্ধে। সেদিন আটকের পর গুম ও রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল নেতা তানভীর।