ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিশু রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী ও বিএনপির নেতারা © সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তাদের বাসায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানাতে তিনি পল্লবীর ওই বাসভবনে যান।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী রামিসার বাসায় পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একমাত্র কন্যাসন্তানকে হারিয়ে শোকে মূহ্যমান পিতার কান্না কিছুতেই থামছিল না। তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, পবিত্র এই খুশির দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপনাদের একা ফেলে যাননি। ওনার পক্ষ থেকেই আমি আজ আপনাদের মাঝে এই খোঁজখবর নিতে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন আপনাদের আশ্বস্ত করতে, এই নরপিশাচ, হত্যাকারী ধর্ষকের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সর্বোচ্চ কঠোর ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও যোগ করেন, রামিসার বড় বোন রাইসার ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনাদের দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে রাইসার আগামী দিনের পড়াশোনার সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আমরা সবাই রাইসার অভিভাবক ও আত্মীয় হিসেবে এই পরিবারের পাশে আজীবন থাকব, ইনশাল্লাহ।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী ৮ বছরের ফুটফুটে শিশু রামিসা আক্তারকে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা নামক এক ব্যক্তি ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে। দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করা এই ঘটনায় ঘাতক সোহেল রানাকে পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে এবং সে আদালতে নিজের লোমহর্ষক অপরাধের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমানে আসামি তীব্র নজরদারিতে কারাগারে রয়েছে এবং মামলাটি দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, সদস্য মাহবুবুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ড. ইকবালুর রহমান রোকনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।