ড্যাফোডিল ছাত্রদলের ইফতার © টিডিসি ফটো
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪–এর সকল শহীদ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শাখা।
মঙ্গলবার (৫ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের আট নম্বর গেটের বিপরীতে ও এক নম্বর হলের পাশে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের মাদ্রাসা মাঠে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শাখা। ইফতার ও দোয়া মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, স্থানীয় এলাকার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতৃত্ববৃন্দ এবং ড্যাফোডিল ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ড্যাফোডিল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক ফেরদৌস দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, 'ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্রদল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ এবং বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে। উক্ত ইফতার মাহফিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আগামীতে আরও বৃহৎ পরিসরে ইফতার মাহফিল আয়োজনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।আমাদের সাধ আছে, কিন্তু সাধ্য নেই। আমাদের ইচ্ছা ছিল যদি আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দান করেন তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীকে দাওয়াত দিয়ে ইফতার মাহফিল আয়োজন করব। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে বা সাধ্যের অভাবে সেটা করতে পারিনি। এজন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আমরা সকল শিক্ষার্থীকে নিয়ে একসঙ্গে ইফতার মাহফিল করব।'
তিনি আরও বলেন, 'আজকের এই ইফতার মাহফিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের জোরালো দাবি এই রমজানের মধ্যে, ঈদের ছুটির পর যেন কোনো ফ্যাসিবাদের দোসর কর্মকর্তা-কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ে না আসেন। যদি আসে, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল তাদের প্রতিহত করবে। বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক ও মানবিক ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।'
অংশগ্রহণকারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্রদল ও শিবিরের ইফতারকেন্দ্রিক কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনকে ঘিরে শিক্ষার্থীরা এখন খোলামেলা কথা বলছে।
তাদের মতে, যদি এসব সংগঠন বলিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সবসময় পাশে দাঁড়ায়, তবে তা শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণকর হবে। পাশাপাশি এটি সুস্থ ধারার ছাত্ররাজনীতি ও আগামীর বাংলাদেশের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সৌমিক আহমেদ অরন্যে বলেন, 'মাহে রমজানের পবিত্রতাকে ধারণ করে আমরা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রদল আগামীতে আরো সুশৃংখল ও শক্তিশালী হয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবো।'