সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন শাকসু নির্বাচনের ছাত্রশিবিরের প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির © টিডিসি
‘ভোটাধিকার হরণ করার প্রথম ধাপ হলো শাকসু নির্বাচন বন্ধ করা’ বলে মন্তব্য করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, ‘শাকসু নির্বাচনের প্রধান সংকট হচ্ছে এখন পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। আমাদের মামলার গ্রাউন্ড স্ট্রং আছে। এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। যদি আবেদন গ্রহণ করা হয়, তাহলে রায় আমাদের পক্ষে আসবে। এ ছাড়া আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, সর্বোচ্চ ওপর মহল থেকে এই মামলা না তোলার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, একটি দলের ইউনিট থেকে শুরু করে হাইকমান্ড পর্যন্ত মিডিয়ার সামনে বলেছেন, ছাত্র সংসদ বন্ধ করার ব্যাপারে তারা ভূমিকা রেখেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের বড় বড় আইনজীবী থাকার কারণে আমাদের ছোট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করতে পেরেছেন। সে জায়গায় আমাদের শিক্ষার্থীদের পক্ষে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ছাড়া আর কেউ নেই। সুতরাং যারা এই ছোট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের বিষয় হিসেবে নিয়েছেন, আমাদের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।’
আন্দোলনকারী স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী পলাশ বখতিয়ার বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল এই নির্বাচন না হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এ জন্য আমাদের আন্দোলন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। একটি রাজনৈতিক দল যখন আমাদের নির্বাচন আটকানোর জন্য তাদের সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করে, তখন আমাদের নির্বাচন আদায়ের লড়াইটা আরও বড় শক্তির বিরুদ্ধে পরিণত হয়। গতকাল আমরা দেখেছি, রিটকারীর পক্ষে যে আইনজীবীরা ছিলেন, তারা বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ের আইনজীবী। তারা এই মামলাটিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, যার কারণে এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। যেহেতু বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি এবং তারা আমাদের বিরোধী শক্তি হয়েছে, সেহেতু আমাদের লড়াইটা আরও দীর্ঘ হয়েছে। আমাদের আন্দোলনের ব্যাপারে দেশবাসী সংহতি জানিয়েছে। সংহতি জানিয়ে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।’
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অন্য শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘হাসিনা এক দিনে তৈরি হয়নি; হাসিনা তৈরি হয়েছে ছোট ছোট অধিকার হরণ করার মাধ্যমেই। আমরা আরেকটি মনস্টার দেখতে চাই না। আমরা চাই দেশবাসী তাদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সচেতন হোক।’
এ সময় পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে তারা বলেন, ‘এখন আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে। পরবর্তীতে আমরা আমাদের কর্মসূচি ঘোষণা করব।’