মাদার পার্টির ‘মিথ্যা-বেফাঁস’ মন্তব্যে বিব্রত ছাত্রদল-শিবির

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:০২ PM , আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:০৭ PM
বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দের একাংশ

বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দের একাংশ © টিডিসি সম্পাদিত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের একের পর এক বেফাঁস মন্তব্যের কারণে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে দলগুলোর সহযোগী ছাত্র সংগঠন। বিশেষ করে, প্রায়ই বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিভ্রান্তিকর এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে সৃষ্ট সমালোচনার নেতিবাচক প্রভাব তাদের সহযোগী ছাত্র সংগঠনগুলোর ওপর এসে পড়ছে।

ফলে একই দলভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও মূল দলের নেতাদের সমালোচনাও করছেন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এমনকি এ বিষয়কে কেন্দ্র করে সংগঠনগুলো একে অপরকে খোঁচা মেরে ভার্চুয়াল বিবাদেও জড়িয়ে পড়ছেন। এতে করে ক্যাম্পাসগুলোতে শান্তিপ্রক্রিয়া বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। 

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের আমলে দলটির নেতাদের নানা বিভ্রান্তিকর ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যে প্রায়ই সমালোচনার সৃষ্টি হত। অবশেষে এ দলের সভাপতি ও তৎকালীন প্র্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চব্বিশের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদেরকে ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ আখ্যা দিয়ে সর্বস্তরের মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তোলেন। যার ফলে ছাত্র-জনতা মিলে ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার পতন নিশ্চিত করে।

এতে সাধারণ মানুষের মনে আশার সঞ্চার ঘটলেও আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে একে অপরকে আক্রমণ করে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের ‘মিথ্যা’, ‘বেফাঁস’ এবং ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে। এতে সাধারণ ছাত্র-জনতা বেশ বিব্রত। এমনকি নিজ দলের নেতাকর্মীরাও দলের বৃহৎ স্বার্থে বেফাঁস মন্তব্যকারীদের প্রতি বিরক্ত। 

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ছাত্র সংগঠনগুলোকে তাদের মূল দলের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হতে দেখা যায়, যার ফলে ভালো-মন্দ সবকিছুর প্রভাবই কোনো না কোনোভাবে তাদের ওপরও পড়ছে। বিভাজন ও ঘৃণার রাজনীতিও এতে উৎসাহিত হচ্ছে। তবে কেবল মূল দলের নেতাদের বক্তব্যই নেতিবাচক প্রভাবের কারণ হিসেবে বিবেচ্য নয়। 

গত ১৯ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত মনোনীত কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের এমপি প্রার্থী মুফতি আমির হামজার একটি বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেটিতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে আওয়ামী লীগের সময়ে আজান দেওয়ার বিষয়ে ভুল ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অনেককে শিবিরকে জড়িয়েও নানা মন্তব্য করতে দেখা যায়। এছাড়া প্রতিবাদ জানিয়ে মুহসীন হলে সংবাদ সম্মেলনও করে ছাত্রদল।  

ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে দেখা যায় আমির হামজা বলছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে ১৬ বছর আজান দিতে দেয়নি জালেমরা। ছাত্রলীগের ভাইদের ঘুমের ডিস্টার্ব হবে বলে ফজরের আজান দিতে দিত না। এবার ডাকসুতে শিবির প্যানেল জয়ী হওয়ার পর পরদিনই আজান আরম্ভ হয়েছে, আল্লাহু আকবার।’

এরপর সমালোচনা শুরু হলে এক সংবাদ সম্মেলনে মুফতি আমির হামজার দেওয়া বক্তব্যের নিন্দা জ্ঞাপন ও প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য হল প্রশাসন কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায় হল ছাত্রদল। এ বিষয়ে হল ছাত্রদল সদস্য সচিব মনসুর রাফি বলেন, ‘নোংরা ও মিথ্যা বক্তব্যের জন্য আমির হামজাকে অবশ্যই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। সেজন্য হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মিথ্যাচারের নিন্দা জ্ঞাপনপূর্বক আমির হামজাকে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

এসময় তাদেরকে শিবিরের সমালোচনা করে বিভিন্ন বক্তব্য দিতে দেখা যায়। সংবাদ সম্মেলনে হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু জার গিফারী ইফাত বলেন, ‘আমরা ইতঃপূর্বে দেখেছি, ডাকসু নির্বাচনে মুহসীন হলের জিএস স্বীকার করেছে শিবির করে। সাধারণ প্রার্থীদের শিবির বলে চালিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা, সারা দেশে তাদের যে ক্রেডিট নেওয়ার অপচেষ্টা এটা কোনোভাবেই হবে না।’

অন্যদিকে, ঢাবির মুহসীন হল নিয়ে দেওয়া মুফতি আমির হামজার বক্তব্যটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আপ বাংলাদেশের সংগঠক ও ঢাবি শিবিরের সাবেক সভাপতি রাফে সালমান রিফাত।

শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে মুফতি আমির হামজার উদ্ভট, অসত্য বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এক বক্তব্যে হজরত উমর রা. কে নিয়ে অসংলগ্ন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণ করার আগে উমর রা. কী ছিল? সবচেয়ে জঘন্য মানুষ ছিল, পশু ছিল। তাই এক নারী যখন তাকে দেখলো সে থরথর করে কাঁপতে শুরু করেছে। নিজের ইজ্জত বাঁচাতে গহনাদি দিয়ে নিস্তার পেতে চাইছে।’ যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয় । 

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেল আয়োজিত টকশোতে অংশ নিয়ে ছাত্রশিবিরকে ‘হেলমেট বাহিনী’ উল্লেখ করে বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি নিলুফার চৌধুরী মনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে তারাই হত্যা করেছে। এসময় তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আসার পর মানুষ বলতো এটি একটি এনজিওগ্রাম সরকার। এখন সেটা রূপান্তরিত হয়ে হয়েছে আন্তঃজামায়াত অন্তর্বর্তী সরকার। কারণ এই সরকার জামায়াত দ্বারা পরিবেষ্টিত সরকার, সেটাই আমি বলার চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের চাঁদাবাজি হেলমেট পরিহিত ওই শিবিরের মতো। আমরা ছাত্রলীগকে হেলমেট বাহিনী বলতাম। আসলে ছাত্রলীগ ওইরকম ছিল না। আসলে তারা ছিল শিবির, নিজেদের গোপন রেখে এ কাজগুলো করেছে। আমি যদি একটা প্রমাণ দেই, আবরার যে মারা গেল, তাকে মেরে ফেললো যারা তাদের আসামিদের উকিল কারা। তিনি হচ্ছেন শিশির মনির। আপনি বোঝেন, আসামিদের উকিল। তাহলে বোঝেন তাকে মারছে কারা।’ এ বক্তব্যটি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।  

গত আগস্ট মাসে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবীদের ‘কালো শক্তি’ ও সংগঠকদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান। সারাদেশে তার কুশপুত্তলিকা দাহ ও গণ জুতা নিক্ষেপসহ নানা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিক্ষুব্ধরা। 

এর আগে, এক টকশোতে ফজলুর রহমান দাবি করে বলেন, ‘যারা ৫ আগস্ট ঘটিয়েছে কালো শক্তি, সেই কালো শক্তির নাম হলো জামায়াতে ইসলাম’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘তাদের যে অগ্রগামী শক্তি হলো, তা ইসলামী ছাত্রশিবির। যাকে সারজিস আলমরা যারা এটার অভিনয় করেছে, এটার অভিনেতা যারা ৫ আগস্টের অভিনেতা—আমি তাদেরকে আর নেতা বলতে চাই না, তাদেরকে আমি অভিনেতা বলব।’

‘আওয়ামী লীগের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিএনপি চলে’—হাসনাতের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গত ২০ মে এক আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বিএনপি নেতারা যদি একত্রে প্রস্রাব করেন, তাহলে এই প্রস্রাবের তোড়ে ভেসে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়বা। এমন কোনো কথা বলবা না, যে কথার দায়িত্ব নিতে পারবা না। বিএনপির সম্পর্কে যে অভিযোগ করছো, সেই অভিযোগের জবাবে বিএনপি যদি শুধু থুথু ফেলে, সেই থুথুর মধ্যে তোমাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

তার এ বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ট্রলিং হয়। তাছাড়া, দলটির আরেক ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলে বক্তব্য দেন। পরে গত ৫ জুন দুইজনকে সতর্ক করে নোটিশ দেয় বিএনপি। 

গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গত রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপি ডাকসু নির্বাচন চায়নি, বিএনপির উপর ডাকসু নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিবিসি নিউজে করা এমন মন্তব্যের ফটো কার্ড শেয়ার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক এবং ডাকসুতে ছাত্র পরিবহণ বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচন করা মো. সাইফ উল্লাহ্ (সাইফ) ফেসবুকে লেখেন, রুমিন ফারহানাদের কথার কারণে দিন দিন আমাদের অবস্থা শোচনীয় হচ্ছে ক্যাম্পাসগুলোতে। আপনাদের মুখের বুলি আমাদেরকে বারবার বিপদে ফেলেছে আমরা বারবার লড়াই করে জায়গা শক্ত করার চেষ্টা করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা যারা রাজনীতি করি তারা দেশের প্রতিটু আনাচে-কানাচে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার জবাবদিহি করতে হয়।’

রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘প্রিয় রুমিন ফারহানা, আপনারা মুখটা বন্ধ করে আমাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। টকশোতে যেয়ে গঠনমূলক ভালো কথা না বলতে পারলে টকশো করা ছেড়ে দেন। ফিল্ড পর্যায়ে আপনাদের কোন জানা-শোনা নাই দেখে যা ইচ্ছে তা বয়ান দিয়ে বেড়ান। আপনারা এখনি থামেন, পরিবেশ যা নষ্ট করার করে দিয়েছেন নতুন করে আমাদেরকে আর বিপদে ফেইলেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ডাকসু নিয়ে সবচেয়ে বেশি আন্তরিক ছিলেন। উনার থেকে বড় বিএনপি আপনারা নন। সুতরাং গালগল্প বন্ধ করে নিজের রাজনীতির দিকে মনোযোগ দেন। আমাদের কাজ আমাদের করতে দেন।’

সাইফের এ স্ট্যাটাসের কমেন্ট বক্সে রাহাত সিকদার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ফজলুর রহমানের কথা উল্লেখ করে লেখেন, ‘ফজু পাগলা, রুমিন ফারহানারা ছাত্রদলের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করছে। প্যানেল হিসেবে ছাত্রদলের গ্রহণযোগ্যতা আর হাইপ যথেষ্ট ছিল।’

গত আগস্ট মাসেও রুমিন ফারহানা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহকে ‘ফকিন্নির বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করেন। যা নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে হাসনাত আব্দুল্লাহও রুমিন ফারহানাকে ‘বিএনপির আওয়ামী লীগ বিষয়ক অন্যতম সম্পাদক’ বলে আখ্যায়িত করেন।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, কাঠামোগতভাবে বিএনপির সাথে ছাত্রদলের যে-রকম সম্পর্ক, সেরকম সম্পর্ক জামায়াতের সাথে আমাদের নেই। কারণ, আমরা আমাদের মতো সিদ্ধান্ত নেই। তারা তাদের মতো নেয়। তবে কিছু কিছ বিষয়ে কো অপারেশন থাকে। জামায়াত বা তাদের কেউ বক্তব্য দিলে দলান্ধের মতো সেটাই যে শিবির গ্রহণ করবে, বিষয়টা সেরকম নয়।

তিনি বলেন, তাদের বক্তব্যের সত্যতা, বাস্তবতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বিবেচনায় আমরা আমাদের সংগঠনের পলিসি অনুযায়ী গ্রহণ করি বা করিনা। আমাদের নেতাকর্মীরা মুফতি আমির হামজার বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে শিবির বিবৃতি দিয়েছে। সুতরাং তাদের কারো বক্তব্যের সাথে আমাদের সংগঠনকে মিলিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোটা আমাদের জন্য বিব্রতকর। 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা শিবিরের বাইরের অর্থাৎ আমরা যে বিষয়গুলোকে ধারণ করি না, সেগুলোর জন্য আমাদেরকে জাস্টিফাই করবে না, বরং আমাদের কাজের জন্য জাস্টিফাই করবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও রাজনীতি বিশ্লেষক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ছাত্র সংগঠনগুলোর কাজ হল অন্ধ লেজুড়বৃত্তি না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক নিজস্ব রাজনীতি হাজির করা ও সময়োপযোগী বয়ান তৈরী করা। আমাদের দেশের ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের মূল দলের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীল, যার ফলে ভাল-মন্দ সবকিছুর প্রভাবই এই সংঘঠনগুলোর উপর পড়ে। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভাজন ও ঘৃণার রাজনীতিকেও উৎসাহিত করে।

তিনি আরও বলেন, কেবলমাত্র মাদার অর্গানাইজেশনের নেতাদের বেফাঁস বক্তব্যের জন্যই ছাত্র সংগঠনগুলো কলুষিত হয়ে যাচ্ছে বিষয়টি পুরোপুরি ঠিক নয়। মোটাদাগে, নিজেদের ভাল-মন্দ কাজের প্রেক্ষিতেই  সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের নিজ নিজ দল মুল্লায়িত ও বিবেচিত হয়।

 

বিয়ের এক বছরের মাথায় ভাঙনের মুখে তাহসানের দ্বিতীয় সংসারও
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ, ৮ শ্রমিক দগ্ধ
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
৩৯ বছর পর ম্যানসিটির ১০ গোলের তাণ্ডব, লন্ডভন্ড এক্সটার সিটি
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
বল বাসার চালে পড়ায় গরম পানি নিক্ষেপ; দগ্ধ হয়ে বার্ন ইউনিটে …
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত: বিতর্কিত …
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্নে ‘আরেকবার চেষ্টা করে দেখার…
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9