নিরাপদ সড়ক ও কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে পুলিশ। সোমবার (৬ আগস্ট) বেলা তিনটার দিকে শাহবাগ মোড়ে এই হামলা হয়।
হামলায় জলকামান ব্যবহার ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে কয়েক'শ শিক্ষার্থীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। আটক করে চার শিক্ষার্থীকে। ঘটনায় অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হন।

আন্দোলনরতরা জানান, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নিরাপদ সড়ক চেয়ে সোমবার দুপুর থেকেই বিক্ষোভ করছিলেন তারা। প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহনে আয়োজিত এই বিক্ষোভ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে শুরু হয়। যা ক্যাম্পাসের কলাভবন, মধুর ক্যান্টিন, কার্জনসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগের দিকে যেতে চাইলে পুলিশি বাঁধা পড়েন। পরে তারা টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, বেলা তিনটার দিকে তাদের বিক্ষোভ মিছিলটি ফের শাহবাগের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান দিয়ে পানি ছিটাতে শুরু করেন পুশি। এক পর্যায়ে শুরু হয় লাঠিপেটা। কাঁদানে গ্যাস ও পুলিশের লাটিপেটায় অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হন বলে জানান প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক গোলাম মোস্তফা। এ সময় তাদের ৪ জন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয় বলেও জানান তিনি।
হামলা ও আটকের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যস্ততার কারণে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান।

তবে বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা জানান, আজকের শাহবাগ ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নগ্নতার চরম বহিঃপ্রকাশ। রাসেল নামে এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও সরকার কোন ব্যবস্থা তো নিচ্ছেই না; বরং প্রতিবাদ করলে হামলার শিকার হতে হচ্ছে। পুলিশ সদস্য ও ও সরকার সমর্থকরা প্রতিনিয়ত স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালাচ্ছে। এভাবে রাষ্ট্র চলতে পারে না। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।