জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েও সফল ফ্রিল্যান্সার ফাহিমুল

২২ এপ্রিল ২০১৯, ১২:১৮ PM

© সংগৃহীত

ডুচেনেমাসকিউলার ডিসথ্রফি নামের একটি জটিল রোগে কেউ আক্রান্ত হলে অল্প বয়সেই রোগীর শরীরের পেশি শুকিয়ে যায়। এতে অনেকেই কর্মশক্তি হারিয়ে অন্যের বোঝা হয়ে পড়েন। বাকি জীবন কাটাতে হয় সীমাহীন দুঃখ-কষ্টে।

তবে মাগুরার ছেলে ফাহিমুলের (২১) জন্য এ রোগ কোন বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। তিনি এখন হাজারো প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণের নিকট বিশাল এক অনুপ্রেরণার নাম। জটিল এই রোগের কাছে হার না মানা ফাহিমুল নিজের পরিশ্রমে হয়ে উঠেছেন সফল ফ্রিল্যান্সার। আয় করে খরচ যোগাচ্ছেন সংসারেরও।

ছোটবেলায় আর দশটা শশিুর মত পড়ালেখা, সাইকেল চালানো, খেলাধুলা সবই করতেন। তবে ২০১২ সালের দিকে জেএসসি পরীক্ষার আগে তার জটিল রোগ ধরা পড়ে। বিছানায় শয্যাশয়ী হয়ে যান। এতে তার স্বাভাবিক সব কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যায়। ফাহিমুলের বাবা রেজাউল করিম বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করেছেন। মা হাজেরা খাতুন গৃহিণী। রয়েছে ছোট এক বোন।

তবে এতে থেমে যাননি ফাহিমুল। ঘরে বসেই ওয়েবসাইটে কাজ করে দেশের সফল ফ্রিল্যান্সারদের একজন তিনি। ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে তাকে নিয়েই আলোচনা বেশি, তিনি অনেকের অনুপ্রেরণাও।

জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরও মনোবল হারাননি ফাহিমুল। মনের জোরে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে প্রতি ঘণ্টায় তাঁর রেট প্রায় আট ডলার বা ৬৭০ টাকা। ফাহিমুল বলেন, ‘রোগটা ছোটবেলা থেকেই ছিল, ডাক্তারও বলেছিলেন শরীরের এ অবস্থা হবে। ছোটবেলা থেকেই শেখার খুব আগ্রহ ছিল।'

‌প্রাইভেট পড়িয়ে জমানো টাকা আর বাবা-মায়ের নিকট থেকে বাকিটা নিয়ে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন কিনে ইন্টারনেটে যুক্ত হন। ২০১৫ সালে ইন্টারনেটে আয় বিষয়ে অবগত হন। তবে কম্পিউটারের অভাবে কিছু হচ্ছিল না। এরইমধ্যে কিছু লিংক থেকে এইচটিএমএল শিখে ফেলেন তিনি। গ্রাফিকস ডিজাইন সম্পর্কেও জানতে পারি।

পরে তার মা'সহ অনেকের প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালে ল্যাপটপ কেনেন ফাহিমুল। এতে দরকারি বিষয়গুলো ইউটিউব দেখে শিখে নেন তিনি। সবশেষ এরপর অনলাইন মার্কেটপ্লেস ফাইভার সম্পর্কেও ধারণা পান তিনি।

ফাহিমুল বলেন, ‘ফাইভারে গিগ (ফাইভারে প্রতিটি সার্ভিসের অফারকে গিগ বলে) গিগ খোলার কিছুদিনের মধ্যেই কাজ পান এবং কয়েক ঘণ্টায় শেষ করেন। এতে বায়ার খুশি হয়ে ৫ স্টার রিভিউসহ বোনাস দেন। এতে প্রথম উপার্জন ছিল ১৫ ডলার।’

এরপর ফাহিমুলকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এক মাসেই লেভেল ওয়ান সেলার হয়ে যান তিনি। প্রচুর কাজ আসতে থাকে। এমনকি মা খাইয়ে দিতেন আর তিনি কাজ করতেন।

প্রথম তিন মাসে ফাহিমুল লেভেল টু সেলার হয়ে যান এবং তাঁর উপার্জন বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪০ হাজার হয়ে যায়। ২০১৭ সালের এপ্রিলে বাবার চাকরি চলে গেলেও প্রথম কাজের টাকা হিসেবে ৩৭ হাজার টাকা তোলেন তিনি। ২০১৭ সালে আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট অনুমোদন পায়। তিন মাসেই আপওয়ার্কের টপ লেভেলের ব্যাজ পেয়ে যান। গত দুই বছরে সাড়ে চার শর বেশি প্রজেক্টে কাজ করেছেন তিনি।

ফাহিমুলের বাবা রেজাউল করিম বলেন,ভারতের একটি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা রোগটির কথা জানান। রোগটির কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই। সেখান থেকে পুনরায় চিকিৎসার জন্য যেতে বলা হলেওআর্থিক সংকটের কারণে সম্ভব হয়নি।

ফাহিমুল জানান, শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও মানসিকভাবে বেশ শক্ত তিনি। স্টিফেন হকিংয়ের নিকট থেকে অনুপ্রেরণা নেন তিনি। বর্তমানে পরিবারের খরচের বড় অংশ আসে ফাহিমুলের আয় থেকে। পাশাপাশি তার ভালো চিকিৎসা করানোরও প্রস্তুতি চলছে।

ফাহিমুল জানান, ফ্রিল্যান্সার হতে হলে প্রচুর ধৈর্যের প্রয়োজন। ইংরেজি জানা জরুরি। তবে ইংরেজি সিনেমা দেখাসহ নানাভাবে ইংরেজি শিখেছেন। এখন অনেকটা এসে গেছে।

মাসুদসহ হাদি হত্যার দুই আসামিকে পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে থাকতে…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
এশিয়া কাপের আদলে নতুন উদ্যোগ আয়ারল্যান্ডের
  • ২২ মার্চ ২০২৬
একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
জামিনে মুক্তি পেয়েই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ঘোষণা ছাত্রলী…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
ফেসবুকে পরিচয়-প্রেম, মেডিকেল পড়ুয়া ছাত্রীকে বিয়ের আগের দিন…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখে এক তরুণ, অসহায় প…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence