সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের তৃতীয় ধাপের প্রশ্নও ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে নিয়োগের প্রথম ধাপে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের ৫ ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। অভিযোগ উঠে দ্বিতীয় ধাপেও। ওই ধাপে পটুয়াখালী থেকে ৩৩ জনকে আটক করে পুলিশ। আজ তৃতীয় ধাপের পরীক্ষাতেও সেই অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। যদিও এর নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি। প্রশ্নঁফাসের অভিযোগে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করার খবরও পাওয়া যায়নি। কিংবা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে কোনো বক্তব্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেয়নি।
তবে প্রাথমিক প্রশ্ন নিয়ে একটি অসাধু মহল যে তৎপরতা চালিয়েছে, সেটা গত কয়েকদিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লক্ষ্য করা গেছে। ‘পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পেতে যোগাযোগ করুন’- শিরোনামে চটকদার কথাবার্তাও ছড়িয়েছেন তারা। এর আগে অনুষ্ঠিত প্রথম দুই ধাপের পরীক্ষার আগেও তারা সক্রিয় ছিল।
জানা গেছে, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম দফায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর পরবর্তী ধাপে প্রশ্ন ফাঁস রোধে চার ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে নিজ জেলার প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। অভিন্ন প্রশ্নের সেট দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে না। ২ বা ৩টি জেলায় একটি অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রথম ধাপে ২৬টি জেলায় অভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এছাড়া কেন্দ্রে কোনো পরীক্ষার্থী মুখ বা কান ঢেকে প্রবেশ করতে পারবে না। পরীক্ষার দিন সকল কেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিঠি দিয়ে নিরাপত্তা বাড়াতে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে কোনো পদক্ষেপই কোনো কাজে আসেনি।
এর আগে অবশ্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর হতে জেলাভিত্তিক মনিটরিং টিম প্রেরণ করার পাশাপাশি এবার মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তরসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভাগীয় শহরের পরীক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কোন প্রকার অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করবেন; তাদের সকলকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
প্রশ্নফাঁসের এ বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন সাবেক গণমাধ্যমকর্মী শরিফুল হাসান। তিনি লিখেছেন, ‘আমি ভয়াবহ রকম হতাশ। আজ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা ২৭ টা জেলায়। কিন্তু সকাল থেকে ইতিমধ্যেই আমার ইনবক্সে অনেকে প্রশ্ন পাঠিয়ে বলেছেন, এবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো। আমি খুব করে চাই, এই প্রশ্ন যেন না মেলে। এর আগে ২৪ মে ও ৩১ মে দুই ধাপেই দুইবারই প্রশ্নপত্র ফাঁসে অভিযোগ ওঠে। এভাবে আর কত?
আচ্ছা বলেন তো, শিক্ষক নিয়োগেও যদি ফাঁস হয়, এর চেয়ে দুঃখের আর কী হতে পারে? আর আমাদের দেশে সরকারি প্রাইমারিগুলোর কী দশা আমরা সবাই জানি। এখন যদি নতুন করে ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগেও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, তাহলে তো আরও ভয়াবহ অবস্থা হবে।
আমি যতোটা জেনেছি, আগামী ২১ জুন চতুর্থ ধাপের পরীক্ষা শেষে জুলাই মাসের শেষ দিকে প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। পরবর্তী ১৫ দিন পরপর পরবর্তী ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে। অক্টোবরে মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের সঙ্গে জড়িত কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ, লিখিত পরীক্ষার পর যখন মৌখিক পরীক্ষা নেবেন খুব যাচাই-বাছাই করুন যাতে অযোগ্যরা শিক্ষক হতে না পারেন।
আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে বলবো, কঠোর ব্যবস্থা নিন। প্লিজ। চলুন সবাই মিলে একটা জাতির ধ্বংস হওয়া ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ হই।’
পড়ুন:প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্ন সমাধান
প্রসঙ্গত, সারাদেশে তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১ জেলার ২৪ লাখ এক হাজার ৯১৯ জন প্রার্থী প্রায় ১২ হাজার পদের বিপরীতে এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। রাজস্ব খাতভুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮ লিখিত পরীক্ষার সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপে গত ২৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মে ও আজ তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো। চতুর্থ ধাপের পরীক্ষা আগামী ২৮ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।