সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় একসঙ্গে এ পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মোট এক ঘণ্টাব্যাপী ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে প্রথম দু’ধাপের মত পরিস্থিতি যেন অপ্রীতিকর না হয়, সে জন্য প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আরও সতর্ক হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। তারা বলছেন, এই ধাপে প্রশ্নফাঁসের নূন্যতম সুযোগ নেই, যদিও আগের দু’ধাপেও প্রশ্নফাঁস হয়নি বলে তাদের দাবি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক এ এফ এম মনজুর কাদির জানিয়েছেন, আগের মত ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়. সেজন্য আরও কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।
আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর হতে জেলাভিত্তিক মনিটরিং টিম প্রেরণ করার পাশাপাশি এবার মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তরসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভাগীয় শহরের পরীক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কোন প্রকার অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করবেন; তাদের সকলকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি। যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরাসরি সহযোগিতা নেয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
ঢাকাসহ সংশ্লিষ্ট জেলায় গোয়েন্দা তৎপরতা ব্যাপক হারে বাড়ানো হয়েছে। এর আগে ২৪ মে ১১ জেলায় প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেদিন সাতক্ষীরায় এ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। প্রশ্নফাঁস হয় দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষাতেও। ৩১ মে দেশের ২৬ জেলায় একসঙ্গে ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যাতে প্রায় ৬ লাখ প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
আরো পড়ুন:কেমন হলো প্রাথমিকের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা (প্রশ্নসহ দেখুন)
এদিকে তৃতীয় ধাপের প্রশ্নফোঁস ঠেকাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে আছে অভিন্ন প্রশ্নের বদলে একাধিক প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া। এর আগে ১১ জেলায় একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়। আগের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় এবারে যে ২৬ জেলায় পরীক্ষা হচ্ছে, সেসব জেলার কোনো কর্মকর্তাকে প্রশ্ন তৈরির কমিটিতে রাখা হয়নি। কান ঢেকে পরীক্ষার হলে ঢুকতে পারবেন না কোনো পরীক্ষার্থী।
আজ যেসব জেলায় পরীক্ষা
শরীয়তপুর জেলার সদর, জাজিরা, ডামুড্যা, মাদারীপুর জেলার শিবচর, কালকিনি, ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা, মধুখালী, নরসিংদী জেলার সদর, পলাশ, শিবপুর, জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী, দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, টাঙ্গাইল জেলার সদর, ঘাটাইল, সখিপুর, গোপালপুর, বাসাইল, দেলদুয়ার, কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর, কুলিয়ারচর, ইটনা, মিঠামইন, নারায়ণগঞ্জ জেলার সব উপজেলা, শেরপুর জেলার সব উপজেলা, রাজবাড়ী জেলার উপজেলা, লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি, কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, মহেশখালী, রামু, চাঁদপুর জেলার সদর, হাইমচর, মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, কুলাউড়া, হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, মাধবপুর, চুনারুঘাট, সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, দক্ষিণ সুরমা, পিরোজপুরের কাউখালী, নাজিরপুর, মঠবাড়িয়া, ইন্দুরকানী, পটুয়াখালী জেলার বাউফল, মির্জাগঞ্জ, কলাপাড়া, রাঙাবালি, সাতক্ষীরা কলারোয়া, কালিগঞ্জ, নাটোর জেলার নলডাঙ্গা, লালপুর, বাগাতিপাড়া, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা, ডিমলা, লালমনিহাট জেলা উপজেলা এবং ঠাকুরগাঁও জেলার সব উপজেলায় আজ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের ৩য় ধাপের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পর গত বছরের ১ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে ২৪ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়ে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন করা হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে।