জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন © টিডিসি
আগামী সাত দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের দোসর ও তথ্য সন্ত্রাসীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা না হলে ‘মার্চ টু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’-এর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন `জাগ্রত জুলাই' নামের একটি সংগঠন। পাশাপাশি অভিযুক্ত সাংবাদিকদের মিডিয়ায় স্মারকলিপি দেওয়া এবং তার নিচে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি মুন্সি বোরহান মাহমুদ তিনি এই ঘোষণা দেন।
বোরহান মাহমুদ বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় গণমাধ্যমকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। বিগত সময়ে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় একটি অপ-সাংবাদিকতা সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে, যারা সাংবাদিকতার নামে মিথ্যাচার, চরিত্রহনন এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর কাজে লিপ্ত ছিল। এই চক্র গণমাধ্যমকে জনগণের কণ্ঠস্বর থেকে সরিয়ে ক্ষমতার প্রচারযন্ত্রে পরিণত করেছিল। তথ্যকে ব্যবহার করা হয়েছে অস্ত্র হিসেবে—চালানো হয়েছে নগ্ন ‘তথ্য সন্ত্রাস’। সত্যকে চাপা দেওয়া হয়েছে, মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, আর ভিন্নমতকে নির্মমভাবে দমন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা সত্য বলেছে, তারা হয়রানি, মামলা, চাকরি হারানো, এমনকি হত্যার হুমকি ও শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে। সেই শঙ্কা নিয়ে নতুন নির্বাচিত সরকার আবারও সেই পুরোনো তথ্য সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন করছে কি না, সেটি জাতি জানতে চায়। এই অপ-সাংবাদিকতার নেপথ্যের অনেকেই এখনও গণমাধ্যমের ভেতরে ঘাপটি মেরে আছে। তারা আজও সুযোগের অপেক্ষায়—আবারও গণমাধ্যমকে দখল করতে, আবারও মিথ্যাকে সত্য বানাতে, আবারও জনগণকে প্রতারিত করতে। এই বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা দেখেছি, বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও পডকাস্ট চ্যানেল তৈরি করে কালচারাল ফ্যাসিস্ট, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এসময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, অপ-সাংবাদিকতা ও তথ্য সন্ত্রাসে জড়িত সকল ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে জবাবদিহিতা ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। গণমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের সব পথ বন্ধ করতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর হয়রানি ও নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যমের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দখলদার ও স্বার্থান্বেষী চক্রকে অপসারণ করতে হবে। প্রকৃত স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রবাহ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করতে হবে।