‘রুম থেকে বের হয়ে দেখি এত আগুন এত আগুন’, প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষিকার মর্মস্পর্শী বর্ণনা

২১ জুলাই ২০২৫, ১০:৫৮ PM , আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৫, ০২:০৭ PM
পূর্ণিমা দাশ

পূর্ণিমা দাশ © ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনের সামনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নানা তথ্য উঠে আসছে। এখনো পর্যন্ত ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। মর্মান্তিক ঘটনার ঠিক আগে ক্লাস নিচ্ছিলেন স্কুলটির শিক্ষিকা পূর্ণিমা দাশ। দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন তিনি। 

সোমবার (২১ জুলাই) বিকেলে পোস্ট করা তার স্ট্যাটাসটি ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই সেটি শেয়ার করছেন, মন্তব্য করছেন, তার অভিজ্ঞতার বর্ণনায় মর্মাহত হচ্ছেন। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য তার স্ট্যাটাস হুবুহু তুলে ধরা হলো।

স্কুল ছুটি হয় দুপুর একটায়। এরপর দুই ঘণ্টা কোচিংয়ের জন্য কিছু ছাত্রছাত্রী স্কুলে ছিল এবং যাদের অভিভাবক তখনও নিতে আসেনি, তারা অপেক্ষা করছিল।

দুপুর একটা ১০ কি ১৫ মিনিটে একটা জেট বিমান (বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান) ক্র্যাশ হয়ে দিয়াবাড়ি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী বিল্ডিংয়ে আগুন ধরে।

ওই বিল্ডিংয়ে বাংলা ভার্সনের ক্লাস থ্রি থেকে ফাইভ আর ইংরেজি ভার্সনের ক্লাস সিক্স থেকে এইটের বাচ্চাদের ক্লাস হয়। আমিও ওখানেই ক্লাস নিই।

আমি ক্লাস শেষ করে ঠিক যেখানে আগুনটা লেগেছে, ওই করিডোর পার হয়ে আমাদের টিচার্স রুমে গেছি। ততক্ষণে ওই বিল্ডিংয়ের আশি ভাগ বাচ্চারা বাড়ি চলে গেছে। এবং তখন বিল্ডিংয়ে ভয়ানক শব্দ, আমি কিছু বোঝার আগে দেখি, ছোট ছোট বাচ্চাগুলো দৌড়ে আসছে। দেখলাম, তাদের সারা গায়ে আগুন। আমি কোনো রকমে ওয়াশরুমে গিয়ে পানি ঢালছি দুই–তিনজনের গায়ে। এমন সময় একজন টিচার চিৎকার করে বলছেন, ‘পূর্ণিমা বের হোন। বের হোন।’

রুম থেকে বের হয়ে দেখি, এত আগুন এত আগুন! সমস্ত করিডোরে আগুন! আমার থেকে দুই হাত দূরে আগুনের মধ্যে আমার একজন সহকর্মী ছুটতে ছুটতে এসে আমার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ে বলেন, ‘আমাকে বাঁচান।’ তার সারা শরীর পুড়ে গেছে।

আমি স্থাণুর মতো দাড়িয়ে আছি তখনও। কেউ একজন হ্যাঁচকা টান দিয়ে আমাকে ওই জায়গা থেকে সরায় এবং বিল্ডিংয়ের গ্রিল ভেঙে আমাদেরকে বের করা হয়।

আমার বাচ্চাগুলোকে আমি পাঁচ মিনিট আগেও দেখে এসে পাঁচ মিনিট পরে তাদের পুড়ে যাওয়া শরীর দেখে এসেছি।

ভগবান এ রকম দিন কেন দেখাল জানি না, কেন আমার কোনো আঁচড়ও লাগল না, আমার কেন কিছু হলো না, আমি জানি না। ওই ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর মুখ আমার চোখের সামনে ভাসছে। আমার সহকর্মীদের চেহারাগুলো চোখের সামনে ভাসছে।

কত মায়ের বুক আজ খালি হলো। কেন হলো, জানি না।

পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি বন্ধ করতে আমিরের সেক্রিফাইস স্মরণীয় …
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
একসঙ্গে বিষপান করল যুগল, প্রেমিকার মৃত্যু, হাসপাতালে প্রেমিক
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
সড়ক অবরোধ, ছাত্র-শিক্ষক অনশনসহ কয়েকদিনে যেসব ঘটনা ঘটলো বরিশ…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
এনসিপির সদস্য হলেন ইবির বৈছাআ'র আহবায়ক সুইট
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
এনসিপিতে যে পদ পেলেন জুনায়েদ-রাফে সালমানরা
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
শেকৃবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬