নির্যাতিত স্কুল ছাত্রী © টিডিসি ফটো
সেতু (১৩), সৎ মা সাবিনার হাতে নিত্য দিন ছলছুতায় নির্যাতনের শিকার হতো। এসবের খেয়াল রাখতো না বাবা রিয়াজ শিকদার। সে ঘুম থেকে উঠে সকালে পান্থাপাড়া বাজারে ভাঙ্গারীর দোকানে চরে যেত, ফিরতো রাতে। গত ২৪ মার্চ সামান্য কারণে ছোট এ শিশুটির কোমল শরীরের ঘাড়, কনুই, হাতসহ ১৩টি স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে দগ্ধ করেছে।
ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এবং মাথার উপরে ছাদ হারাবার ভয়ে কাউকেই জানায়নি এসব। এমনকি বাবাকেও না। দগদগে ঘা নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে। কিন্তু বিধিবাম। চোখ এড়ায়নি এলাকাবাসীর। শিশুটির সারা শরীরের খুন্তির ছ্যাঁকা দেখে আঁতকে উঠেছে সকলে। প্রতিবাদ জানিয়েছে এলাকার নারী পুরুষ, শিশু ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
এলাকার মানবাধিকার কর্মী মমতা খাতুন রবিবার সকালে মেয়েটিকে উদ্ধার করে কালামৃধা বাজারে নিয়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করান। এ মর্মস্পর্শী ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার উত্তর সীমান্তে কবিরাজপুর ইউনিয়নের পান্থাপাড়া গ্রামে। এঘটনায় পুলিশ রবিবার শিশুটির সৎ মা সাবিনা বেগম ও ভাই ছাব্বিরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় হাজির করে।
রাজৈর উপজেলা সীমান্ত পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী সেতু জানায়, প্রায় ৯বছর পূর্বে আমার মা রেহানা বেগম মারা যায়। মা জীবিত থাকতেই বাবা পুনরায় সৎ মা সাবিনা বেগমকে বিয়ে করে। এরপরই আমাদের উপর নেমে আসে নির্যাতনের খর্গ। এ ঘরে এক ভাই ও এক বোন রয়েছে। এ সৎ ভাই ছাব্বির (১৭) ও সৎ নানীর প্ররোচনায় সৎ মা সাবিনা গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেয়। আমি যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও তাদের মায়া হয়না। এসময় সৎ ভাই আমার হাত চেপে ধরে। আমাকে চিকিৎসা পর্যন্ত দেয়নি। আমি কারো কাছে অভিযোগ করলে আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলে কে আমাকে আশ্রয় দিবে? এ ভয়ে কাউকেই জানাইনি।
রাজৈর থানার এসআই খান মোঃ জোবায়ের জানায়, খবর পেয়ে রবিবার ঘটনা স্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করি এবং সৎ ভাই ছাব্বির ও সৎ মা সাবিনাকে আটক করে থানা নিয়ে আসি। এসময় রাজৈর মহিলা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি মোমেনা বেগম, মানবাধিকার কর্মী মমতা খাতুন ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহানা নাসরিন জানান, মেয়েটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির পুনর্বাসনের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।