প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় গনিত ভীতি সবচেয়ে বেশি। যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং নির্দেশনা না থাকায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সমস্যা প্রকট। গানিতিক সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গণিত ভীতি দূর করতে প্রায় ৫০০ কোটি (৪৯৯.৫৮ কোটি) টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রথম পর্যায়ে ১৬ জেলার ১৬টি উপজেলার ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে, ‘একই অঙ্ক বারবার অনুশীলন’ নির্ভর গণিত শিক্ষাকে ‘সমস্যা সমাধান, ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক প্রয়োগ’ নির্ভর পদ্ধতি গ্রহণপূর্বক একটি সামগ্রিক গণিত পাঠদান পদ্ধতি প্রস্তুত ও প্রয়োগ করা।
আজ রোববার ডিপিইর অডিটোরিয়ামে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শীর্ষক প্রকল্পের অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং সহ সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি প্রাথমিকের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমিত থাকবে। জেলাপর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্বে অংশগ্রহণ করানো হবে। নির্বাচিত উপজেলায় একটি করে প্রাথমিক গণিত অলিম্পিয়াড ও বিজয়ীদের জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রাথমিক গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আকরাম-আল-হোসেন গত সপ্তাহে বলেছেন, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে যথাযথভাবে পড়তে, বলতে ও লিখতে পারে না। অথচ পরীক্ষায় তারা উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চতর শ্রেণিতে ভর্তি হয়। এ পরিপত্রের পরপরই গণিতভীতি দূর করতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হলো মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।