সরকার সারাদেশে রূপালী ব্যাংক শিওরক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বিতরণ করছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপবৃত্তির টাকা তুলতে গিয়ে নানা ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দেশে অপ্রতুল এজেন্ট, এজেন্টদের অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা এবং টাকা তোলার সময় এজেন্টরা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন—এ রকম বিভিন্ন ঘটনার সাক্ষী অভিভাবকরা।
জানা যায়, বর্তমানে রূপালী ব্যাংকের শিওরক্যাশের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট এক কোটি ৩০ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মধ্যে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ করা হচ্ছে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরের ১ মার্চ সকালে গণভবনে আয়োজিত এক ভিডিও কনফারেন্সে উপবৃত্তির টাকা শিওরক্যাশের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মায়েদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কার্যক্রমটির উদ্বোধন করেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা বিতরণের এই প্রকল্পটির নাম ‘মায়ের হাসি’। টাকা বিতরণে দুর্নীতি দমন করে স্বচ্ছতা বাড়াতেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়। রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত চুক্তিটি হয় ২০১৬ সালের জুনে।
দেশের এক কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা দিতে এক কোটি অ্যাকাউন্ট খোলার লক্ষ্যে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে নির্ধারিত ফরম পাঠানো হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক বিনামূল্যে ১ কোটি সিম দিয়েছে উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীর মায়েদের জন্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এখনও অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মায়েরা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেননি। তারা এ নিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বেশ কিছু ক্ষেত্রে এজেন্টদের অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের যোগসাজশে টাকা মেরে দেওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে।
উপবৃত্তির অর্থ বিতরণের অনিয়ম তদন্ত করে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের বরাবর চলতি বছরের ২২ জুন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর একটি চিঠিও দেয়। তারপরও থেমে নেই অসৎ লোকদের অনিয়ম।
অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, শিওরক্যাশের এজেন্টরা অবৈধ কমিশন-বাণিজ্য শুরু করেছেন। টাকা তোলার সময় এসব এজেন্টের অনেকেই ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করছেন। এমন একটি ঘটনায় মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় শফিকুল ইসলাম নামের এক শিওরক্যাশ এজেন্টকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিওরক্যাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শাহাদত খান এ অনিয়মের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, কোনো কোনো এজেন্ট টাকা বেশি নেওয়ার অপচেষ্টা করছে। এমন অপকর্ম রোধের জন্য আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। প্রত্যেক এজেন্টকে চিঠি দিয়েছি। কোনো কোনো এজেন্টকে বাদ দিয়েছি। কয়েকজন গ্রাহকের টাকা ফেরত দিয়েছি। জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের এ বিষয়ে তদারকি করার অনুরোধ করেছি।