অস্ট্রেলিয়ান অ্যাওয়ার্ড বৃত্তির নানা সুবিধা

০৪ মার্চ ২০২০, ১১:৩৭ AM

শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড বা অসএইড বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া। সম্মানজনক এই বৃত্তির মাধ্যমে তরুণ পেশাজীবীরা অস্ট্রেলিয়া সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও তত্ত্বাবধানে সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ পান। ৩৪তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য ইশরাত সিদ্দিকা ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রদত্ত অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড বৃত্তি পেয়ে এখন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্রওফোর্ড স্কুল অব পাবলিক পলিসিতে পড়ছেন। তিনি লিখেছেন তাঁর অভিজ্ঞতা।

২০০২ সালে আমি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪.৭৫ জিপিএ নিয়ে এসএসসি ও ২০০৪ সালে ৪.৯০ জিপিএ নিয়ে এইচএসসি পাস করি। পরে বগুড়া মেডিকেল কলেজে ভর্তি হই, কিন্তু কিছুদিন পর ইস্তফা দিয়ে চলে যাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। নিজের পছন্দে এবার পড়তে শুরু করি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান বিভাগে। স্নাতকের শুরুটা একটা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে হলেও, এখন মনে হয় সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল না। স্নাতক (প্রথম শ্রেণিতে চতুর্থ) ও স্নাতকোত্তরে (প্রথম শ্রেণিতে ষষ্ঠ) ভালো ফল নিয়েই বেরিয়েছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘লেজার মেডিকেল সেন্টার’–এ ক্লিনিক্যাল পুষ্টিবিদ হিসেবে খণ্ডকালীন চাকরি শুরু করি। স্নাতকোত্তর পাসের পর কিছুদিন জনতা ব্যাংক লিমিটেডে কাজ করি। কিন্তু সব সময় বিসিএস চাকরির প্রতি আলাদা আকর্ষণ ছিল। ৩৪তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের চাকরিতে যোগ দিয়ে শুরুতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাজ করার সুযোগ পাই। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় কাজ করি। আর এখন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্রওফোর্ড স্কুল অব পাবলিক পলিসিতে ‘পাবলিক পলিসি: ইকোনমিক পলিসি’ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছি।

আবেদন কীভাবে করব

অস্ট্রেলিয়ান অ্যাওয়ার্ড বৃত্তির জন্য নির্বাচিতদের নানা সুবিধা দেয়। অস্ট্রেলিয়া সরকারের দেওয়া এই সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ টিউশন ফি, যাতায়াত খরচ, পৌঁছানোর পর এককালীন বন্দোবস্ত ভাতা, মাসিক জীবনযাত্রা ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা ইত্যাদি। সার্কুলারেই লেখা থাকে যে কারা আবেদন করতে পারবেন। ক্যাডার অফিসার, সেন্ট্রাল ব্যাংকের অফিসার, জুডিশিয়াল অফিসার, এনজিও কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার উদ্যোক্তা বা চাকুরে, গবেষণা সংস্থা, গণমাধ্যমকর্মীদের আবেদনে উৎসাহিত করা হয়। কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় দেওয়া থাকে, শুধু সেসব বিষয়েই আবেদন করা যায়। আইইএলটিএসের সর্বনিম্ন স্কোর পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬.৫ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৬.০ প্রয়োজন। বছরে একবারই অনলাইনে আবেদনের সুযোগ আছে। সাধারণত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় থাকে। OASIS নামে অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন ফরমের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।

এই প্রাথমিক পর্যায়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই আবেদনেই কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই, কী বিষয় পড়তে চাই, কেন পড়তে চাই, দেশের উন্নয়নে আমার জ্ঞান কীভাবে কাজে লাগবে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইত্যাদি সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে হয়। স্নাতকোত্তরে অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে কীভাবে কাজে লাগবে, সে বিষয়ে একটি ‘ডেভেলপমেন্ট ইমপ্যাক্ট প্ল্যান’ জমা দিতে হয়। শিক্ষক ও অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে দুটি রেকমেন্ডেশন লেটার (সুপারিশপত্র) জোগাড় করতে হয়। চাকরির অভিজ্ঞতা বেশ কাজে আসে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বগুণ আবেদনে তুলে ধরতে হয়। সাধারণত বেশির ভাগ আবেদন বাতিল হয়ে যায় এই প্রাথমিক পর্যায়েই। তাই আবেদন ফরমটি খুব সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করা উচিত। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাওয়ার্ড বৃত্তি ২০২১ সালের জন্য আবেদন শুরু হয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তিরা তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ইউটিউবেও আবেদনের বিভিন্ন ধাপ খুঁজে পাবেন।

আরও জানা প্রয়োজন

অস্ট্রেলিয়ান অ্যাওয়ার্ডের ভাইভা আমাদের দেশের গতানুগতিক নিয়ম থেকে ব্যতিক্রম। আমি অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা নিলে তা পরবর্তী সময়ে আমার নিজের ও আমার দেশের জন্য কীভাবে কল্যাণ বয়ে আনবে, সে বিষয়ে প্রথমে পাঁচ মিনিটের একটি প্রেজেন্টেশন দিতে হয় বোর্ডের সামনে। প্রেজেন্টেশনের আলোকেই ব্যবহারিক কিছু প্রশ্ন করা হয়। তাঁরা মূলত দেখতে চান, আমাকে বৃত্তি দিলে তা দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং এ বিষয়ে আমার ধারণা পরিষ্কার কি না।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা। এর ক্রওফোর্ড স্কুল পাবলিক পলিসির জন্য বিশ্ববিখ্যাত। বিশ্বের অনেক বিখ্যাত গবেষক ও শিক্ষাবিদের আবাস বলে এ প্রতিষ্ঠান পরিচিত। নিঃসন্দেহে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া আমার জন্য গর্বের ও আনন্দের। এখানকার পড়ালেখার পদ্ধতি আমাদের দেশ থেকে একেবারেই ভিন্ন। এখানের ক্লাসগুলো অনেক অংশগ্রহণমূলক, বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মুখস্থ জ্ঞাননির্ভর নয়। এখানে এসে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে এক হয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি নিয়ে জানা এবং সর্বোপরি একটি বিশাল নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারা সত্যিই জীবনের একটা অনেক বড় অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি নিজের দেশকেও সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ আছে। (সূত্র: প্রথম আলো)

ভালুকায় দীপুচন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের আরও এক আসামী গ্রেপ্তার
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
তামিমের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি বাংলাদেশের
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা বাদে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্…
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দিয়ে পালালেন ঢাবি শিক্ষার্থী অনিক
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
বিএনপির দুর্দিনের কাণ্ডারি খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ১৫ তম ম…
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেন পোপ লিও
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence