সংঘর্ষে নিহত কেফায়েত উল্লাহ ওরফে হালিম © টিডিসি সম্পাদিত
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংঘর্ষে কেফায়েত উল্লাহ ওরফে হালিম নামে এক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ক্যাম্প-৮/ইস্ট ও ক্যাম্প-০৭-এর মধ্যবর্তী তরজার ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ক্যাম্পে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল হালিমের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ এবং আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-এর মধ্যে। এ বিরোধের জের ধরেই উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে হালিম গুলিবিদ্ধ হলে তাকে দ্রুত কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) ও নুর মোহাম্মদ নামে আরও দুইজন রোহিঙ্গা সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, তিনি মিয়ানমারে অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং একসময় আরসার শীর্ষ পর্যায়ের কমান্ডার ছিলেন। পরে কৌশলগত কারণে সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ‘হালিম’ নামে উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন এবং আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন (এআরও)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
তার নেতৃত্বাধীন গ্রুপের বিরুদ্ধে ইয়াবাসহ মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান, হত্যা, অপহরণ ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ক্যাম্পে মজুদ ও বিতরণের মাধ্যমে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একবার আটক হলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে মুক্তি পাওয়ার ঘটনাও আলোচনার জন্ম দেয়।
হালিমের মৃত্যুর ফলে ক্যাম্পে একটি বড় নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ১৪ এপিবিএন পুলিশের পক্ষ থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়।