মোঃ আসলাম হোসেন © টিডিসি ফটো
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ ফায়ার ফাইটারসহ মোট ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ ও আহত হয়ে হাসপাতালে বিছানায় কাতরাচ্ছেন দেড় শতাধিক মানুষ। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা মনে করছেন কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ এ আগুন ও বিস্ফোরণের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে আমদানি করা রাসায়নিক যৌগ ‘হাইড্রোজেন পার অক্সাইড’।
রসায়নবিদরাও বলছেন যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ঘটাতে পারে মারাত্মক ভয়াবহ দূর্ঘটনা। কেননা এটি অক্সিডাইজার হিসেবে ভূমিকা পালন করে রাসায়নিক হিসেবে আগুনে অক্সিজেন বা অন্যান্য উপাদান যোগ করে থাকে। একইসাথে বিশুদ্ধ বা মিশ্রিত আকারে বিভিন্ন ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তারমধ্যে প্রধান হলো এটি জৈব যৌগের সংস্পর্শে বিস্ফোরক মিশ্রণ তৈরি করে।
রাসায়নিক যৌগ হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের গঠন, বৈশিষ্ট্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সাথে কথা বলেছেন রাজধানীর ঢাকা কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আসলাম হোসেন।
আরও পড়ুন: বিশ্বসেরার তালিকায় ঢাবি-বুয়েটসহ এবারও দেশের ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়
তিনি বলেন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত H2O2। বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি বর্ণহীন তরল ধরণের। পানির থেকে এর সান্দ্রতা (তরল পদার্থের অভ্যন্তরীণ ঘর্ষণের ফলে প্রবাহে বাঁধা দেওয়ার প্রবণতাকে সান্দ্রতা বলা হয়) সামান্য বেশি। গাঢ় হাইড্রোজেন পার অক্সাইড রকেটের জ্বালানীতে প্রোপেল্যান্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
তিনি বলেন, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড নিজে আগুন সৃষ্টি করতে না পারলেও এটি একটি অক্সিডাইজার হিসেবে কাজ করে। যার মানে হলো, অক্সিজেন ছাড়াই আগুন জ্বলাতে পারে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড।
এ কারণে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের অক্সিজেন আগুনের তীব্রতা বাড়াতে পারে এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং তাপ থাকলে আগুন জ্বলার সম্ভাবনা বেশি করে। অর্থাৎ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড থাকার কারণে আগুন জ্বলার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতেও আগুন দীর্ঘক্ষণ আগুন জ্বলতে পারে অথবা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
সহজ প্রাপ্যতার কারণে ও আংশিকভাবে অন্যান্য অ্যান্টিসেপটিকের তুলনায় কম খরচ হওয়ার কারণে ঐতিহাসিকভাবে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ক্ষত জীবাণুমুক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিলো বলেও জানান তিনি। এটি এখনও অনেক উন্নয়নশীল দেশে ক্ষত চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এটি একটি প্রধান প্রাথমিক চিকিৎসা এন্টিসেপটিক হিসাবে প্রচলিত।
হাইড্রোজেন পার অক্সাইড এর কারণে যেখানে আগুন লেগে যায় তা আর পানি দিয়ে নেভানোর সম্ভব হয় না বরং পানির উপস্থিতিতে মাত্রা আরো বাড়ে। শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পার অক্সাইডই নয় বরং রাসায়নিকের দ্বারা যেখানে আগুন লাগে সেখানে ফগ সিস্টেমে ড্রাই পাউডার বা ফোম ব্যবহার করার পরামর্শও এই রসায়ন বিভাগের শিক্ষকের।