ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল
অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন © সংগৃহীত
সংসদে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল’ পাস হওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, কেবল নাম পরিবর্তনে শিক্ষার গুণগত মান বাড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ৭ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে নাম পরিবর্তন করলেই লেখাপড়া ও গবেষণার মান স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্নত হবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই রূপান্তরের পেছনে সরকারের নির্দিষ্ট কী পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে, মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগে কোনো ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা গবেষণার পরিবেশ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি কোনো কার্যকর পরিকল্পনা আছে কি না—তা স্পষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ড. মামুন উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং কিংস কলেজ লন্ডন—নামে ‘কলেজ’ থাকলেও বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তার তথ্যমতে, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন কিউএস বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় এবং টাইমস র্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে রয়েছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে নবম ও টাইমস র্যাঙ্কিংয়ে ২২তম। আর কিংস কলেজ লন্ডন ৩১ থেকে ৩৬-এর মধ্যে অবস্থান করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘নামে কী আসে যায়, বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিলেই বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যায় না।’ একটি মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে প্রয়োজন বড় বাজেট, উন্নত গবেষণা পরিবেশ এবং উচ্চমানের শিক্ষক। তার ভাষ্য, কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং একটি শক্তিশালী একাডেমিক ও গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার দিকেই সরকারের মনোযোগ দেওয়া উচিত।