সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না— শিবির সন্দেহে বিশ্বজিৎও খুন হয়েছিল

১২ এপ্রিল ২০২২, ০৩:৫১ PM

© টিডিসি ফটো

শিবির সন্দেহে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) হত্যা করা হয়েছিল বিশ্বজিৎকে। যদিও সে একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক ছিলো। পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে শিবির বলে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ঠিক এমন অন্যের দায় আমাদের সন্তানদের উপর চাপিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না। দয়া করে আমাদের মনের অবস্থাটা একটু বুঝুন।

গত ২৪ মার্চ শিবির সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়টির ১২ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছিল রাজধানীর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পরবর্তীতে তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার পর বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন।

আজ মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন এসব শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা। সবার পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিক্ষার্থী মেহেদীর মা নুরজাহান বেগম।

এসময় তিনি বলেন, গত ২৪ মার্চ ভোররাতে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার একটি ভাড়া মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীসহ মোট ১২ শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি টিম। আমরা গ্রেফতার হওয়া সেই শিক্ষার্থীদের পরিবার।

“আটকের পর পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। পরে চারদিকে জানাজানি হলে পুলিশ বিশেষ ক্ষমতা আইনে দেওয়া একটি মামলায় ১২ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর  আদালতের নির্দেশে তিনদিনের রিমান্ড শেষে এই শিক্ষার্থীদের জেলে পাঠানো হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এইসব শিক্ষার্থীরা দ্রব্যমূল্য কমানোর দাবিতে আয়োজিত এক মিছিলে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে এবং এই সংক্রান্ত প্লাকার্ড প্রদর্শন করে রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটানোর কাজে লিপ্ত ছিলেন।”

“এদিকে এই ঘটনার পর বিভিন্ন স্থানে সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে জনগণের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে অজুহাতে ১১ শিক্ষার্থীকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।”

মেহেদীর মা  আরও বলেন, শুধু তাই নয়, এরপর তাদের আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার বিস্ফোরক আইনের আরেকটি মামলায়। অথচ এই সময়ে করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমাদের সন্তানরা গ্রামের বাসায় অবস্থান করেছিলেন। গ্রেফতার হওয়া ১২ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারজন চলতি বছরের মার্চে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। গত ৮ মার্চ ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে যুক্ত হতে এইসব শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ জীবনে প্রথম ঢাকায় এসেছেন। তাহলে এইসব শিক্ষার্থীরা ঢাকায় না এসেও কিভাবে ঢাকায় ঘটা একটা মামলার আসামি হোন? ২০২১ সালে আমাদের অনেক সন্তান ঢাকায় ছিলেন না। তারা ঢাকায় এসেছেন মাত্র ২০ দিন। তাহলে কেন এক বছর আগের মামলার তাদের যুক্ত হলো?

তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য কোন আবাসিক হল নেই। যার কারণে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী এলাকায় ভাড়া মেসে থাকছেন। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ যদি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সন্তানদের জন্য হলের ব্যবস্থা করতে পারতো তাহলে আমাদের এই দিন দেখতে হতো না। অথচ দেখেন যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় এইসব শিক্ষার্থীদের পাশে  দাড়ানোর কথা সেখানে তারা বিমাতাসুলভ আচরণ করে ১১ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আচরণে খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমরা জানতে চাই কোন আইনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে? পুলিশের মিথ্যা মামলা আমলে নিয়ে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ও শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করে তাহলে শিক্ষার্থীরা কার কাছে যাবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আচরণের কারণে নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভতের সঞ্চার হবে।

মেহেদীর মা লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, আমরা আশা করবো সরকার বিষয়টি আমলে নিয়ে নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় বহিষ্কার আদেশ বাতিল করবেন। আমরা খুবই চিন্তায় আছি। আমাদের মনের অবস্থাটা বুঝেন। এই পবিত্র রমজান ও ঈদে আমাদের সন্তানের আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন। আমাদের অবিচার করবেন না।

জনবল সংকট, রুয়েটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঝুঁকিতে
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সিনিয়র এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে অলিম্পিক, আবেদন শেষ ২৬ এপ্রিল
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
আনন্দ-সম্প্রীতির নববর্ষ
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রকৌশলীকে লাঠি হাতে…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
এক মুরগি তিনবার জবাই করা চলবে না: শিক্ষামন্ত্রী
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
নৌবাহিনীতে বেসামরিক পদে নিয়োগে বড় বিজ্ঞপ্তি, পদ ১১০, আবেদন …
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬