সুজল কুমার অধিকারী © সংগৃহীত ছবি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শেখ রাসেল হলের শাখা কর্মকর্তা সুজল কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে এক আবাসিক ছাত্রকে থাপ্পড় মারার হুমকি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের করা অভিযোগ ওঠে। পরে ভূক্তভোগী ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিপন রায় প্রক্টর ও হল প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
এ ঘটনা সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়ালে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হল কর্মকর্তা সুজল কুমারকে শেখ রাসেল হল থেকে অব্যাহতিসহ উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান তারা।
আরও পড়ুন: সশরীরে ক্লাস-ক্যাম্পাস বন্ধের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেরাই নেবে
ফেসবুক স্ট্যাটাসে আব্দুর রউফ নামের শিক্ষার্থী লেখেন, মাঝেমধ্যেই এমন খবরের শিরোনাম আমাদের সত্যি বিব্রত করে। যাদের শিক্ষার্থীদের সেবা করার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা প্রতিনিয়ত তাদের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ার ফলেই এই বিষয়গুলো বারবার ঘটছে।
রিয়াদ নামের এক শিক্ষার্থী লেখেন, ক্যাম্পাসে যেন ছাত্রদের জন্য নয় শিক্ষক কর্ম-কর্মকর্তাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাহিদ একজনকে রক্তাক্ত করলো ছাত্ররা তেমন কোন প্রতিবাদ করেনি। ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করতে হবে। নাহলে কেউ থাপ্পাইরা সোজা করবে আবার কেউ কান ফাটাবে এমনটা চলতেই থাকবে।
আকিব হাসান পারভেস নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, এনারা নিজেদেরকে ভিসির উপরের পর্যায়ের কর্মকর্তা ভাবে। শাহারিয়ার বিন সিফাত লেখেন, শেখ রাসেল হলের শতকরা ৫ জন ছাত্রও উনার আচরণ পছন্দ করেন না। এছাড়া বিভিন্ন অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হলের একাধিক শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে
এর আগেও সুজলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি ধামকি দেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত অক্টোবরের শেষের দিকে তার বিরুদ্ধে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা আন্দোলনও করেছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, রিপন রায় শেখ রাসেল হলের ১০২ নং কক্ষে (গণরুম) দীর্ঘদিন ধরে থাকেন। হল প্রশাসন গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে একক সিট বরাদ্দ না দেওয়া পর্যন্ত গণরুমে শিক্ষার্থী তোলা হবে না। কিন্তু গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে হলের শাখা কর্মকর্তা সুজল প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে ওই কক্ষে তুলে দিতে নিয়ে আসেন। এতে কক্ষে অবস্থানকারীরা অসম্মতি জানান।
আরও পড়ুন: ঢাবিতে আসন কমানোর সুপারিশে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
তাদের কক্ষে একটি হিটার দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করে রুমে হিটার কেন। ভূক্তভোগী ও তার বন্ধুরা ব্রত পালন করতে মাসে দুয়েকদিন হিটারে নিরামিষ রান্না করেন বলে জানান। এরপর তিনি বলেন, এই ছেলে তোমাকে থাপরাইয়া সোজা করে দেব। তুমি জানো আমি হল প্রশাসন কী করতে পারি। তোমরা আসো আর বলো আমি গরীব অনেক দূরে বাড়ি, আমাকে একটা সিট দেন।’
অভিযুক্ত কর্মকর্তা সজল কুমার অধীকারী শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তাদের সাথে এমন ধরনের আচারণ করেনি। শিক্ষার্থীরা আমার সাথে এমন কেন করছে বুঝতে পারছি না।
বিশবিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিষয়টি ভূক্তভোগীর মাধ্যমে শুনেছি। যেহেতু এটা হলের ব্যাপার তাই শনিবার প্রভোস্টের সাথে বসবো