© টিডিসি ফটো
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) একটি ভবনের নির্মাণকাজ থেকে কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দেওয়ায় ছাত্রলীগের হুমকির মুখে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ নিয়ে নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্মাণকাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ অভিযোগের দায়ভার নিচ্ছেনা ছাত্রলীগ।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদের কাছে লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত দুইদিন ধরে ছাত্রলীগের ১০-১২ জন নেতা-কর্মী চাঁদা দাবি করে আসছেন। গতকাল সোমবার রাত ৮টায় নেতা-কর্মীরা গিয়ে ১০ থেকে ১৫ শ্রমিককে মারধর করেন। পাশাপাশি সাইটে ভাঙচুরও করা হয়।
জানা যায়, গত বছর ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজের নতুন একাডেমিক ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়। এ কাজ করছে মেসার্স আবদুল খালেক, মেসার্স এয়াকুব অ্যান্ড ব্রাদার্স ও মেসার্স এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। এর কার্যাদেশ মূল্য ৩৫ কোটি ১২ লাখ ৬ হাজার টাকা।
এ কাজ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মো. নঈম উল ইসলাম জানান, ছাত্রলীগের নামধারী কয়েকজন কোটি টাকা চাঁদা করেছেন। টাকা না দিলে কাজ করতে দেবে না বলে হুমকিও দেন। সোমবার রাতে শ্রমিকদের মারধর করা হয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আর শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।
তিনি বলেন, সোমবার রাতে সাত থেকে ৮ জন ব্যক্তি সাইটে আসেন। তাঁরা নিজেদের ছাত্রলীগ বলে পরিচয় দেন। তাঁরা আমাকে বলেন, 'আমরা ছাত্রলীগ। আমরা ক্যাম্পাসের প্রধানমন্ত্রী। আমাদের সাথে কথা না বলে কোনো কাজ হবে না। আমরা যা বলি তাই করতে হবে।' এরপরই আমরা হুমকির মুখে কাজ বন্ধ করে দেই।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। তাই কেউ যদি ছাত্রলীগ নামধারী পরিচয়ে এসব চাঁদাবাজি করে সেটার দায়ভার একান্তই তারাই নেবেন। এছাড়া আমাদের দুই সদস্যের ছাত্রলীগের কমিটির পক্ষ থেকে কেউ এসব ঘটনায় যুক্ত থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের নাম সংগ্রহ করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।