যশোরে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ২৭৩ ক্লিনিক-ল্যাব

১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩১ PM , আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩২ PM
ক্লিনিক-ল্যাবের ছবি

ক্লিনিক-ল্যাবের ছবি © টিডিসি ফটো

যশোরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে চরম অরাজকতা ও রোগীদের সাথে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলাজুড়ে ৩০৯টি অনুমোদিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ২৭৩ টিরই কোনো হালনাগাদ লাইসেন্স নেই।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, যশোর জেলার আট উপজেলায় মোট ৩০৯টি অনুমোদিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ১২০টি ক্লিনিক ও ১৮৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যশোর শহরসহ সদর উপজেলার মধ্যে রয়েছে নামে-বেনামে ১৪৫টি প্রতিষ্ঠান

নামমাত্র অনুমোদনে বা বিনা লাইসেন্সেই চলছে সিংহভাগ প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো আবাসিক ভবন বা ঘিঞ্জি গলিতে গড়ে উঠলেও যথাযথ তদারকির অভাবে মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। সেবার নামে সাধারণ মানুষের 'পকেট কাটা'র মহোৎসবে মেতেছেন কিছু অসাধু ক্লিনিক মালিক।

যশোর জেনারেল হাসপাতালকে কেন্দ্র করে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা বেসরকারি সেবা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— কিংস মেডিকেল সার্ভিসিং অ্যান্ড হসপিটাল, ডক্টর চেম্বার, আল হায়াত হসপিটাল, ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সিটি হসপিটাল, পপুলার মেডিকেল সার্ভিসেস, গ্রীন লাইফ এবং নোভা মেডিকেল সেন্টারসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। এসব ক্লিনিকে দক্ষ জনবল বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকলেও বড় বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রোগীদের আকৃষ্ট করা হয়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে অস্ত্রোপচারের মতো স্পর্শকাতর কাজ চললেও মাঝেমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত ফাইলবন্দী হয়েই থাকে। এমনকি বন্ধ করে দেওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান 'বিশেষ ব্যবস্থাপনায়' আবারও চালু হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাম থেকে আসা রোগীদের টার্গেট করতে এসব ক্লিনিক ও হাসপাতাল অসংখ্য দালাল নিয়োগ করেছে। এই দালালরা উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিম্নমানের ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে প্যাথলজিক্যাল টেস্টের নামে দ্বিগুণ-তিনগুণ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় এবং অনেক সময় পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করা হয়। ল্যাবগুলোতে দক্ষ টেকনোলজিস্ট না থাকায় ভুল রিপোর্টের কারণে রোগীরা প্রায়ই ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন।

শহরের বাসিন্দা মাহফুজ হোসেন ও জিয়াউল হাসান জানান, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর অভিযানের অভাবেই ক্লিনিক মালিকরা এমন বেপরোয়া। ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করলেও কিছুদিন পর তারা পুরোনো চেহারায় ফিরে আসে। অসহায় রোগীদের কণ্ঠে ঝরে পড়ছে আক্ষেপ, তারা বলছেন, 'ব্যবস্থাপত্রে ডাক্তার যে-সব পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন, সেগুলো করতে গিয়ে তারা ফতুর হওয়ার উপক্রম হন। সরকারি হারের চেয়ে বেসরকারি ল্যাবের পরীক্ষার খরচ অনেক বেশি, যদিও তার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।'

এ বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়ে বলেন, 'সরকার থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে অবৈধ সেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধের। আমরা অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর তালিকা তৈরি করেছি। যাদের লাইসেন্স নেই বা শর্ত পূরণ করছে না, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের সাথে আপোশ করার কোনো সুযোগ নেই।

চবিতে ছাত্রদল নেতা মুছাকে স্মরণ, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
গভীর রাতে গুনাহ মাফ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ আমল 
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে জামায়াতকর্মী নিহত
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
১০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভ…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন গ্রেপ্তার 
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950