নেদারল্যান্ডস-জাপান ম্যাচ © সংগৃহীত
দুবার এগিয়ে গিয়েও কাঙ্খিত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারল নেদারল্যান্ডস। উল্টো অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মূল্যবান একটি পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল জাপান। রবিবার (১৫ জুন) রাতে ডালাসে ২-২ গোলে ড্র হয়েছে ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচটি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে নেদারল্যান্ডস। বল দখলে এগিয়ে থেকে তারা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।
অন্যদিকে জাপানও পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করে এবং মাঝেমধ্যে বিপজ্জনক আক্রমণ সাজায়। রক্ষণ ও মাঝমাঠের শৃঙ্খলাবদ্ধ খেলায় নেদারল্যান্ডসের আক্রমণভাগকে বারবার আটকে দেয় তারা।
ম্যাচের ৩৪তম মিনিটে কর্নার থেকে নেদারল্যান্ডস ফরোয়ার্ড ডনিয়েল মালেনের নেওয়া হেড জোরালো হলেও অসাধারণ দক্ষতায় তা ঠেকিয়ে দেন জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। এতে নিশ্চিত একটি গোল থেকে বেঁচে যায় জাপান।
এরপরও ভির্জিল ফন ডাইকের নেতৃত্বাধীন নেদারল্যান্ডস একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে জাপানও দ্রুতগতির আক্রমণ দিয়ে ম্যাচে ভারসাম্য বজায় রাখে। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য ব্যবধানে শেষ হলেও ম্যাচের আসল নাটকীয়তা জমে ওঠে দ্বিতীয়ার্ধে। বিরতির পর চারটি গোল উপহার পায় ক্রীড়াপ্রেমীরা। ডাচ অধিনায়ক ভার্জিন ফন ডাইকের গোলের জবাবে ৫১তম মিনিটে জাপানের হয়ে সমতা ফেরান কেইতো নাকামুরা।
এরপর ৬৪ মিনিটে ক্রিসেন্সিও সামারভিলের গোলে আবারও এগিয়ে যায় ডাচরা, সে সময়ে মনে হচ্ছিল জয়টা বুঝি তাদের হাতের মুঠোয়। তবে জাপান যে শেষ বাঁশি বাজার আগপর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে জানে, সেটাই আবারও প্রমাণ করল তারা।
দুইবার পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি এশিয়ার দলটি। ম্যাচের শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তারা। সেই চেষ্টারই পুরস্কার আসে ৮৮ মিনিটে, যখন দাইচি কামাদা দুর্দান্ত এক গোলে সমতা ফেরান। তার গোলেই শেষ পর্যন্ত ২–২ ব্যবধানে ড্র করে জাপান। ফলে, শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ভরা এই ম্যাচে দুই দলই একটি করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয়।