© টিডিসি ফটো
নোভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। বন্ধের এই সময়ে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাসের সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মান বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস করার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এর বিপরীত। আর তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত নোয়াখালী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মান বৃদ্ধিতে পুরো ক্লাসের কার্যক্রম শুরু করছেন বিভাগের প্রভাষক মো. মাহফুজুর রহমান।
এভাবে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে অনলাইন ফেসবুক লাইভ সেবা ব্যবহার করে ক্লাস নেওয়া, অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়াসহ যাবতীয় কাজ করছেন তিনি। দেশে ব্যক্তিগতভাবে এটি একটি ভিন্ন ধরণের উদ্যোগ। অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার জন্য এর মধ্যেই শিক্ষার্থীদের জন্য ফেসবুকে একটি গ্রুপ এবং অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়ার জন্য মেসেঞ্জারে একটি গ্রুপ চালু করা হয়েছে।
অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার এই প্রক্রিয়াকে সাধুবাদ জানান নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আল-হেলাল মোঃ মোশাররফ হোসেন। তিনি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, করোনা ভাইরাসের কারনে দীর্ঘকালীন এই ছুটিতে শিক্ষার্থীরা হোম কোয়ারান্টাইনে অবসর সময় কাটাচ্ছেন। এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মনোযোগী করে তোলা এটি একটি ভালো উদ্যোগ। আমি চাই অন্য বিভাগের শিক্ষকরাও এমন উদ্যোগ নেবেন।
এ নিয়ে নোয়াখালী সরকারি কলেজ এর সমাজবিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ জানান, মাহফুজুর রহমানের অনলাইনে ক্লাস নেওয়া সম্পর্কে আমি অবগত আছি। এটা স্যারের একটা ভালো উদ্যোগ। আমরা আমাদের বিভাগের অন্য শিক্ষকদেরকেউ বলবো যেন এসে লাইভে ক্লাস নেয়।
দ্বিতীয় দফায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার (৬ এপ্রিল) পর থেকে নিয়মিত অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেন এই শিক্ষক। এ বিষয়ে কথা সাহিত্যিক ও শিক্ষক আনন্দ কিশোর (মোঃ মাহফুজুর রহমান) দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার চিন্তা করে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা শুরু করলাম করলাম। শিক্ষার্থীরা হোম কোয়ারান্টাইন অবস্থায় অনলাইনে এ ক্লাসে অংশ নিয়েছে।’
এতে করে তাদের একাকী সময়টা আনন্দে ভরে উঠবে। অনলাইনে ক্লাসের পুরো প্রক্রিয়াটি ফেসবুক গ্রুপ-এর মাধ্যমে করা হয়েছে উল্লেখ করে মো. মাহফুজ রহমান জানান, আমি ডিজিটাল ক্লাসরুম ব্যবহার করেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছি। এ পদ্ধতিতে যেকোনও শিক্ষকই ক্লাস নিতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়াও শিক্ষার্থীদেরকে সবসময় নিরাপদে এবং বাড়ীতে বাচ্চাদেরকে নিয়ে খেলাধুলা করার পরামর্শ দেন তিনি। এ নিয়ে মাহবুবুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, চলমান মহামারী করোনাভাইরাসের পরিস্থিতিতে বিশ্বের সকল মানুষ আজ গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় আমরা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়াশোনার সঠিক ধারাবাহিকতা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘নিঃসঙ্গতা ও পড়াশোনার সমস্যাটা লাঘবের জন্য আমাদের প্রিয় শিক্ষক মাহফুজ স্যারের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্যেগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কারণ এর মাধ্যমে আমাদের একাকীত্বটা কাটিয়ে পড়াশোনার ঘাটতি এবং সেশন জটের মত সমস্যা কিছুটা হলেও দূর করতে পারবো বলে আমি মনে করি।’
সম্পদ আহমেদ নামের আরেক শিক্ষার্থী জানান, ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গিয়েছি আমি। ঠিক তখনি স্যার ভালোবাসাময় আড্ডার চলে বিরক্তি দূরীকরণের জন্য পড়ালেখার এক নিদারুণ পদ্ধতি শুরু করেন। সত্যি স্যার আপনাকে পেয়ে আমরা আনন্দিত। আমাদের সবার ভালোবাসা নিবেন।’
আরেক শিক্ষার্থী আছমা আক্তার বলেন, ‘মহামারী করনাভাইরাসের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমরা শিক্ষার্থীরা গৃহবন্দী হয়ে আছি। আমাদের মাঝে হতাশা তৈরি হয় ফলে আমরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ি। স্যারের অনলাইনের ক্লাস করে পূর্বের ন্যায় প্রাণবন্ত ক্লাস অনুভব করি। স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আমাদেরকে এমন প্রাণবন্ত ক্লাস উপহার দিয়ে আমাদের হতাশা, একঘেয়েমি ভাব দূর করে আবার পড়াশোনায় মনযোগী করার জন্য।’
এর আগে, গত ১৬ মার্চ (সোমবার) দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একাধিক রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দেশের সরকারি ও বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দূরে রাখতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।