আজফার কামাল চৌধুরী শাওন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আজফার কামাল চৌধুরী শাওন। এরচেয়ে বড় পরিচয় হলো তিনি চবির রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের ভাতিজা। এই পরিচয়ে তিনি পার পেয়ে গেছেন ইভটিজিংয়ের অভিযোগ থেকেও। এমনকি প্রক্টরিয়াল বডির শেল্টারেই রোষানল থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। এ নিয়ে তীব্র আলোচনা সমালোচনা চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে আজফারের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ উঠে। এঘটনায় তাৎক্ষণিক ছাত্রলীগের একাংশের সাথে মারামারির ঘটনাও ঘটে। এসময় আজফার নিজেকে উপাচার্যের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে পুলিশ এবং প্রক্টরিয়াল বডি দ্বারা তাদেরকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। একপর্যায়ে স্বয়ং প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরাই আজফারসহ তার সাথে থাকা ৫ বহিরাগত ইভটিজারকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ২০ মিনিটের জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
জানা যায়, আজফার সহ ৫ বহিরাগতকে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উদ্ধার করে ওয়াচ-টাওয়ারের ভেতরে রাখলে তারা টয়লেটে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে সহকারী প্রক্টর রেজাউল করিম এসে আজফারসহ বাকীদেরকে ভিসির বাংলোতে নিয়ে যেতে প্রক্টরের গাড়িতে তুলেন। এসময় ইভটিজিংয়ের ঘটনার বিচার না করে তাদেরকে নিয়ে যেতে চাওয়ায় ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রক্টরের গাড়িতে হামলা চালায়। যদিও এতে কোনো ভাংচুরের ঘটনা ঘটেনি। সোমবার রাত ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন এলাকায় আজফার ও ৫ বহিরাগত একসাথে ছাত্রলীগের বগি ভিত্তিক ভিএক্স গ্রুপের রকিবুল ইসলাম রকির বান্ধবীকে ইভটিজিং করে। ছাত্রলীগ নেতা রকি এর প্রতিবাদ করলে উপাচার্যের ভাতিজা আজফারের সঙ্গে থাকা বহিরাগতরা রকির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এ সময় আজফার পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি ডেকে রকিকে গ্রেফতার করার হুমকি দেয়।
একপর্যায়ে রকির সঙ্গে এই বাকবিতণ্ডার খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগের ভিএক্স গ্রুপের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন চত্বরে এসে জড়ো হন। সেখানে বহিরাগতের সঙ্গে ভিএক্স গ্রুপের দুই দফায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় উপাচার্যের ভাতিজা আজফারকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ এবং প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য রেজাউল করিম, মারিয়ম ইসলাম লিজা ও রিফাত রহমান।
তারা আজফার ও বহিরাগতদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো পয়েন্টের ওয়াচ টাওয়ারে অবস্থান নেয়। এসময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সহকারী প্রক্টরদের কথা হয়। একপর্যায়ে উপাচার্যের ভাতিজা আজফার ও তার সঙ্গে আসা বহিরাগতদের বিচার না করে প্রক্টরের গাড়িতে করে উপাচার্যের বাংলোতে পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে সহকারী প্রক্টর রেজাউল করিম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভিএক্স গ্রুপের কর্মীরাপ্রক্টরের গাড়িতে হামলা চালায়।
ঘটনাস্থলে এসে ভিএক্স গ্রুপের নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে প্রক্টরের গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করে৷ এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রক্টরের গাড়িকে ধাওয়া করে। পরে গাড়িটি উপাচার্যের ভাতিজা আজফার ও বহিরাগতদের নিয়ে উপাচার্যের বাংলোর দিকে চলে যায়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় জিরোপয়েন্ট এলাকায় আতংকের সৃষ্টি হয়৷ দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা
ছুটোছুটি শুরু করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্যের ভাতিজা আজফার কামাল চৌধুরী শাওন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বহিরাগতদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। এছাড়া ভিএক্স গ্রুপের নেতা রকি বলেন, যেহেতু ভর্তি পরীক্ষা চলছে, কাজেই আমরা এটা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করতে চাচ্ছি না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রেজাউল করিম বলেন, ঘটনাটি ভর্তি পরীক্ষায় যাতে কোন প্রভাব না ফেলে, সেদিকে খেয়াল রেখে আমরা বিষয়টি আলোচনা করছি। এ বিষয়ে চবির রুটিন দায়িত্ব প্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, প্রশাসন যদি লেজুড়বৃত্তিক কোনো কাজ করে থাকে। সেটা সত্যিই দুঃখজনক। কিন্তু এরকম একটা ঘটনার প্রায় একদিন পার হয়ে গেলেও প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো সমাধান দিতে পারছেন না। তাছাড়া হঠাৎ করে অভিযোগকারী ছাত্রলীগের ঐ গ্রুপটাও কেনই বা বিষয়টি সামনে এগুতে চাচ্ছে না। সেটাও এখন বড় প্রশ্ন। আমরা ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়েছি। তাই বিষয়টা এখন সম্পূর্ণ প্রশাসনের উপর।