ক্যাসিনোর মতো শিক্ষাঙ্গনেও অভিযান চালানোর আহবান

০৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৫৮ PM

বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অরাজকতা হচ্ছে, দুর্নীতি হচ্ছে, আমাদের জাতির জন্য তা দুঃখজনক। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমরা আরো পচঁতে থাকবো। এখান থেকে আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, উনার উচিৎ শিক্ষাঙ্গনে যে দুর্নীতি হচ্ছে তার বিরুদ্ধেও যুদ্ধে নামা।

দুর্নীতি মুক্ত শিক্ষাঙ্গনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন জ্বোহা চত্বরে অবস্থান নেন। সেখানে অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ দাবি আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘একটা জাতির শিক্ষা যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে তারা কখনোই উঠে দাঁড়াতে পারবে না। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা সবচেয়ে বেশি দিয়ে ৭৩’র অধ্যাদেশে শিক্ষকদের জবাবদিহিতা রাখেন নি। কিন্তু আমাদের শিক্ষক সমাজ সেই মর্যাদা ধরে রাখতে পারেন নি। শিক্ষার শক্তিটা যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে যতই উন্নতি করি না কেন, কোন কিছুতেই আমরা আগাতে পারব না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার আর্থিক লেনদেনের ফোনালাপ কেলেঙ্কারির ঘটনায় আন্দোলনে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের অপসারনের দাবি জানিয়েছেন তারা। এনিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচী পালন করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনের সামনে স্বাধীনতাবিরোধী ও দুর্নীতিবাজ প্রশাসনের অপসারণ দাবিতে অবস্থান নেন শিক্ষকরা। ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এসময় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সুজিত কুমার বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্ণধার চৌধুরী জাকারিয়া বলেন, তোমরা কতটাকা দিতে পারবা? এর মানে কি দাড়ায়? তাই আমি দুর্নীতির সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সাংবাদিকরা সঠিকভাবে বস্তুনিষ্ঠভাবে মতপ্রকাশ করতে পারছে না। একটা বাধা আছে। সেটা সরে গেলেই জাতির সামনে দেশের সামনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক দুর্নীতির খবর বেরিয়ে আসবে। আমরা চাই অন্য যে দুর্নীতির খবর গুলো আছে সেগুলোও সামনে আসুক।

ভূতত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুলতানুল ইসলাম বলেন, ''প্রশাসনের এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে চলবে।"

সাবেক লাইব্রেরী প্রশাসক অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী বলেন, বর্তমান প্রশাসনের দুর্নীতির কারণে সর্বোচ্চ রেজাল্ট ৩.৮৬৯ পেয়েও শিক্ষক হতে পারে না, কিন্তু উপাাচার্যের জামাতা হওয়ার কারণে ৩.২৫ হওয়ার কারণে তাকে চাকুরিতে নিয়েছেন। একই ঘটনা উপ-উপাচার্যের জামাতার ক্ষেত্রেও।

এসময় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আলী রেজা টিপু বলেন, দুর্নীতিবাজ প্রশাসনের দুর্নীতির শিকড় এই শিক্ষাঙ্গন থেকে উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত শিক্ষক সমাজ আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এই যৌক্তিক দাবির আন্দোলনে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনের আহ্বান জানান তিনি।

এসময় প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী, শামসুন নাহার, সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা মিজানুর রহমান, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মুজিবুল হক আজাদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে একই দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরাও। পরে শিক্ষকদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে মানববন্ধনে যোগ দেন তারা। সেখানে তারা প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির আস্তানা ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও, স্বজনপ্রীতির আস্তানা ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও, এক দফা এক দাবি পদত্যাগ পদত্যাগ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো প্রস্ততি নিতে পারছে না এসএসসি …
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন ইসহাক সরকার
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ফেসবুকে মতপ্রকাশের জেরে তুলে নেওয়া রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদের পু…
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
শেষ বৈঠকের ছবি দিয়ে আপ বাংলাদেশকে বিদায় জানালেন রাফে
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৃষি প্রযুক্তি, শিল্প উন্নয়ন ও দক্ষত…
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় জামায়াতের আমিরের ক্ষোভ
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬