বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি সম্পাদিত
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাসের নিয়ম উপেক্ষা করে ভিসির অনুমতি আছে বলে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হতাশা চত্বর সংলগ্ন তাপসী রাবেয়া বসরী হলের প্রবেশ পথের পাশে বাঁশ দিয়ে একটি বড়সড় দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া টিএসসির সামনেও আরও একটি দোকান নির্মাণের খবর পাওয়া গেছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে আবাসিক হল কেন্দ্রিক ছাড়া অন্য কোথাও বাণিজ্যিক দোকান বসানোর নিয়ম নেই। প্রশাসন কিংবা এস্টেট শাখার কোনো লিখিত অনুমতিপত্র ছাড়াই দোকানটি বসানো হয়। প্রক্টর অফিসের তথ্যমতে, আজ পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ভেতরে দোকান দেওয়ার বিষয়ে কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে লিখিত আবেদনও জমা পড়েনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্যাম্পাসের মধ্যে দোকানটি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজান দিয়েছে। প্রথমে প্রশাসনের কেউ বিষয়টি জানত না, তারা মূলত উপাচার্য স্যারের নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটিয়ে এসব করছে।’
অভিযোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো.মিজানুর রহমান বলেন, ‘দোকান আমি করি আর যে-ই করুক, প্রক্টর স্যারের অনুমতি নিয়েই তা করা হয়েছে।’
তবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬ প্রক্টরীয় নীতিমালা অনুসারে, প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কোনো স্থায়ী স্থপনার অনুমোদন দিতে পারেন না। তিনি বিধির বাহিরে গিয়ে ছাত্রদলকে এ দোকান করার অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা যায়।
ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা প্রধান সানোয়ার পারভেজ লিটন বলেন, ‘১ নম্বর গেট দিয়ে দোকান তৈরির সরঞ্জাম ভেতরে আনা হয়। তখন নিরাপত্তা প্রহরীকে বলা হয়েছিল উপাচার্য স্যারের অনুমতি আছে। যেহেতু উপাচার্যের কথা বলা হয়েছে, তাই প্রহরীরা আটকায়নি। বিষয়টি জানার পর আমি প্রক্টর স্যারকে ফোন দিয়ে না পেয়ে সহকারী প্রক্টর শাখাওয়াত স্যারকে অবহিত করি।’
দোকান বসানোর বিষয়টি জানতে পেরে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা ও হল প্রশাসন। তাপসী রাবেয়া বসরী হলের সেকশন অফিসার সিনথিয়া শারমিন হলের প্রবেশপথে এমন দোকান তোলায় ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এস্টেট শাখাকে বিষয়টি জানান।
আরও দেখুন: পেশাজীবী নারীদের নেতৃত্বের বিকাশ ও ক্ষমতায়নে ফেলোশিপ দেবে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
এ বিষয়ে এস্টেট শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মো. সাইদুজ্জামান বলেন, ‘হলের দিকে যাওয়ার রাস্তায় বড় একটি দোকান এবং টিএসসির সামনে আরেকটি দোকান উঠেছে। খবর পেয়ে পুরো টিম নিয়ে ক্যাম্পাস ঘুরে দুটি দোকান দেখতে পাই। এস্টেট শাখা থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমন ঘটনায় আমি হতবাক। হলের প্রধান রাস্তায় এভাবে দোকান বসায় ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি এবং প্রশাসনকেও অবহিত করেছি।’
অন্যদিকে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ ছাত্রদল নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কোনো ছাত্রদল নেতা দোকান করছেন না, সেটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে এস্টেট শাখা অবগত।’
তবে এস্টেট শাখা বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে জানালে তিনি রেজিস্ট্রার শাখার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এবিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক. ড. মো: মামুন অর রশীদ বলেন, ‘না না আমি এবিষয়ে কোনো অনুমতি দেয়নি। আমি জানিও না। আর তারা আমার নাম কেনো ব্যবহার করবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যদি কিছু করতে হয় তবে তার নিয়মকানুন মেনে সেগুলো করবে, আমার নাম নিয়ে কেনো করবে তারা।’