বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ছাত্রসংগঠনগুলোর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ‘কোড অব কন্ডাক্টে’ ৯ দফা দাবি অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
রবিবার (১৭ আগস্ট) সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংগঠনটির আহ্বায়ক সজীব আহমেদ ও সদস্যসচিব ওবায়দুল ইসলাম এ দাবিগুলো প্রণয়ন করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ক্যাম্পাসে সব ধরনের সহিংসতা, হামলা, মারধর, ভয়ভীতি, হুমকি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য, সাংগঠনিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন হয়রানি বা আক্রমণের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বজনপ্রীতি বন্ধ করা।
দ্বিতীয় দাবিতে ক্যাম্পাসে অস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র কিংবা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কোনো উপকরণ বহন নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী নিষিদ্ধ সংগঠন বা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তৃতীয় দাবিতে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচয় যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক বহিরাগতকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রক্টরের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ দাবিতে প্রত্যেক ছাত্রসংগঠনের সদস্যদের জন্য আচরণবিধি বা শৃঙ্খলা বিধি প্রণয়ন এবং তা অনুসরণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা কর্মীর ব্যক্তিগত অপরাধকে সংশ্লিষ্ট সংগঠন যেন সমর্থন বা প্রশ্রয় না দেয়, সে বিষয়ে নীতিমালা করার দাবি জানানো হয়েছে।
পঞ্চম দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর সমন্বয়ে স্থায়ী ‘শান্তি ও সহাবস্থান মনিটরিং কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিটিটি নিয়মিত ক্যাম্পাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ষষ্ঠ দাবিতে ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য সেবন বা আসক্তির অভিযোগ উঠলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং সেন্টারের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং পুনর্বাসনের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সপ্তম দাবিতে প্রতি মাসে অন্তত একবার উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ত্রৈমাসিক সভার আয়োজনের কথাও বলা হয়েছে।
অষ্টম দাবিতে সংগঠনটি যৌন অভিমুখিতা ও এজিবিটিকিউ সম্পর্কিত কার্যক্রম নিয়ে তাদের নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
নবম দাবিতে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য নষ্ট করে এমন উসকানিমূলক, মানহানিকর বা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে অনলাইন পেজ, গ্রুপ বা আইডি শনাক্ত করে প্রচলিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জবি খেলাফত ছাত্র মজলিসের আহ্বায়ক সজীব আহমেদ বলেন, ‘ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতেই তাদের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’