প্রায় পরিত্যক্ত খুবির প্রধান ফটকের সামনের ফুটওভার ব্রিজ, রাতে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা 

২০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩২ PM
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের ফুটওভার ব্রিজ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের ফুটওভার ব্রিজ © সংগৃহীত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ সড়ক পারাপার নিশ্চিত করতে প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটি এখন অধিকাংশ সময়ই প্রায় জনশূন্য। দিনের বেলায় অধিকাংশ পথচারী ব্রিজ ব্যবহার না করে সরাসরি সড়ক পারাপার হচ্ছেন। অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত নামলেই ব্রিজটিতে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ে। শুরু হয় ধূমপান, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড।

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ওপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে নির্মিত এ ফুটওভার ব্রিজটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবায়ন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল ব্যস্ত মহাসড়কে নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৯ হাজার ১৪৭ শিক্ষার্থীর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রিজটি নিয়মিত ব্যবহার করেন খুব কম মানুষ। অধিকাংশ শিক্ষার্থী সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার পরিবর্তে সরাসরি সড়ক পার হন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ভর্তি পরীক্ষার সময় কিছুটা ব্যবহার বাড়লেও বছরের অধিকাংশ সময় ব্রিজটি কার্যত অব্যবহৃত থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাস্তার সামনে স্পিড ব্রেকার থাকায় গাড়িগুলোর গতি কমে যায়। তাই ব্রিজে উঠে পার হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আমি অনুভব করি না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে অবস্থিত এক চা-দোকান মালিককে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘দিনের বেশির ভাগ সময়ই ব্রিজে মানুষ দেখা যায় না। তবে রাতের দিকে কিছু বহিরাগত সেখানে আসে। তাদের মধ্যে কেউ ধূমপান ও মাদক সেবন করে। অনেক সময় অশোভন কর্মকাণ্ডও দেখা যায়।’

রাতের বেলায় বহিরাগতদের আনাগোনা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস প্রতিনিধিকে জানান, ফুট ওভারব্রিজে এ ধরনের কোনো ঘটনার তথ্য বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আগে তাদের কাছে ছিল না। তবে স্থানীয়ভাবে এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু এখন আমাদের অবগতিতে এসেছে, তাই পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে দ্রুতই পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে। এ ছাড়া ওই এলাকায় রাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

নিরাপদ পারাপারের জন্য নির্মিত এ অবকাঠামো কার্যকর করতে শুধু ব্রিজ নির্মাণই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় ব্যারিয়ার স্থাপন এবং ব্রিজে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে সরকারি অর্থে নির্মিত এই অবকাঠামো তার মূল উদ্দেশ্য পূরণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। পাশাপাশি রাতের বেলায় বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল ও পর্যবেক্ষণও জরুরি বলে মত দিয়েছেন স্থানীয়রা।

উজানের ঢলে ভেঙেছে সড়ক, ভেসেছে বিদ্যালয়
  • ২১ জুলাই ২০২৬
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: তদন্তে ৩০টির বেশি সুপারিশ, বা…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
আন্দোলনের সময় গুপ্তদের অনেক খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি: তারেক রহ…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষও চিনে তারা কারা: …
  • ২১ জুলাই ২০২৬
গোপালগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে পাঁচ নারীসহ আটক ১১
  • ২০ জুলাই ২০২৬
আন্দোলন শরিক নেতাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
  • ২০ জুলাই ২০২৬