বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সামিউল করিম সুপ্তক © টিডিসি ফটো
এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট কম্পিটিশন বিভাগে বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফি পুরস্কার পেয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সামিউল করিম সুপ্তক। দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট (সাঁকোটা দুলছে) চলচ্চিত্রে চিত্রগ্রহণের জন্য তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন।
শনিবার (২০ জুন) রাতে উৎসবে চিত্রগ্রাহকের পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন চলচ্চিত্রটির নির্মাতা ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ। সুপ্তক ও জিহাদ দুজনেই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। ১২ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত চীনের সাংহাই শহরে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। চলচ্চিত্রটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ। প্রযোজনা করেছেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক। এটি বাংলাদেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মনপাচিত্র এবং জার্মানির মোগাডার ফিল্মের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত বাংলাদেশ-জার্মানি কো-প্রোডাকশন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সামিউল করিম সুপ্তক বলেন, ‘আমার একদমই এক্সপেক্টেশন ছিল না। যখন পেয়েছি, তখন বিশ্বাস করতে পারিনি। ভেবেছি এটা সত্যিই কিনা। এই প্রজেক্টের কয়েকজন যখন বিষয়টি জানায়, তখন মনে হয়েছে যে হ্যাঁ, হয়তো সত্যিই হয়েছে। তখন আরেকটি শুটিংয়ে থাকায় উদযাপনও করতে পারিনি। সত্যি বলতে, এটা আমার প্রথম টেকনিক্যাল অনার ও অ্যাচিভমেন্ট।’
আরও পড়ুন : পৃথক ভর্তি পরীক্ষা নিতে চায় ঢাবির আইন অনুষদ, একই চাওয়া আরও তিন বিভাগের
কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা শুটিং শুরু করি চার বছর আগে, ২০২২ সালের দিকে। বিভিন্ন স্লটে কাজ করতে করতে ২০২৩ সালের দিকে কাজ শেষ হয়। আমরা যে লোকেশনে শুটিং করতে গেছি, সেখানকার মানুষ শুটিং সম্পর্কে তেমন জানতো না। আমাদের পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্টও ছিল না। ঢাকার বাইরে হওয়ায় সবকিছু ম্যানেজ করাও কঠিন হয়েছে। তবে সেখানে সবার সঙ্গে একটা স্ট্রং বন্ডিং তৈরি হয়েছে।’
মূলত গ্রামীণ বাংলাদেশের তিন নারীর জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। যেখনে গল্পে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, কুসংস্কার, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও সামাজিক নিপীড়নের বেড়াজাল থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখা এসব নারীর সংগ্রামের গল্প। সম্পূর্ণ সাদা-কালোতে নির্মিত চলচ্চিত্রটি নারীর জীবন, বিশ্বাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নকে গ্রামীণ বাংলাদেশের বাস্তবতার আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছে।