ফুটবল খেলায় মারামারি
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি ফটো
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) গত বছরের নভেম্বর মাসে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে সংগঠিত পৃথক দুটি সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও সাতজনকে আর্থিক জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়। গত ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯৯তম সভায় শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে 'বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা বোর্ড প্রবিধান ২০১৫' এর ধারা ৩ (ঘ) অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসির সাদিককে নির্দিষ্ট সেশনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই বিভাগের সাইফুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা এবং বর্ষন বণিক, আল হাজ্জ হোসেন, আল-ফাহিম ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মুশফিকুর রহমানকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রাথমিক তদন্তে সাইফুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে শাস্তি শিথিল করে জরিমানা করা হয়। এই ঘটনার সকল অভিযুক্তকে মুচলেকা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ৫ নভেম্বরের সংঘর্ষের ঘটনায় এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আল-মাহমুদ বিন কবির নির্ঝরকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে তিনি আদালতের রিট করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায় তার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালতের রায় অনুযায়ী হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। একই ঘটনায় টেক্সটাইল মেশিনারী ডিজাইন এন্ড মেইনটেনেন্স বিভাগের সাইদুর রহমান এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আব্দুল কাদের মৃদুলকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও মুচলেকা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, 'আমরা এমনই একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রত্যাশা করেছিলাম, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়। প্রশাসন যে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তার জন্য আমরা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে।'
সাধারণ শিক্ষার্থীরাও প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘাত সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে। তাই শৃঙ্খলা রক্ষায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জরুরি ছিল। তবে কেবল শাস্তিই নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহনশীলতা ও সম্প্রীতি বাড়াতে কাউন্সিলিং বা বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করার জন্যও তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।