বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ © সংগৃহীত
বিএনপি সরকারের কথিত অন্তর্ভূক্তিমূলক বাজেটে শ্রমিক-কৃষকের বিশেষ যায়গা হয়নি বলে প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের মিত্র বাম দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল না হলে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্বাধীনভাবে কোন চুক্তি করতে পারবেনা। পাশাপাশি দলটি ভারতকে উদ্দেশ্য করে বলেছে, বাংলাদেশের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা দিতে চাইলে অবিলম্বে তাদেরকে পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।
রবিবার (১৪জুন) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে এসব কথা বলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সরকারের ভালো কাজের যেমন প্রশংসা করবে, তেমনি দেশ ও জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপের বিরোধিতা করবে। নির্বাচনের পর প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক ধারায় দেশকে এগিয়ে নেওয়া সুযোগ কোনভাবে নষ্ট করা যাবেনা।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের কথিত অন্তর্ভূক্তিমূলক বাজেটে দেশের প্রধান উৎপাদক শ্রেণী শ্রমিক - কৃষকদের বিশেষ কোন যায়গা হয়নি। সরকারী কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল হলেও শ্রমিকদের জন্য জতীয় ন্যুনতম মজুরি বোর্ড গঠনের খবর নেই। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিশ্চিত হয়নি।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে এই চুক্তিকে বাংলাদেশের উপর এক ধরনের আদেশনামা হিসাবে আখ্যায়িত করেন। বলেন, এই চুক্তি বহাল থাকলে বাংলাদেশ অপরাপর কোন দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতাসহ স্বাধীনভাবে অন্য কোন দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেনা। তিনি সংসদের চলতি অধিবেশনে আলোচনা করে এই অন্যায় চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বন্ধুত্বের বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তার এই বার্তা আন্তরিক হলে অবিলম্বে ভারতকে বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে পুশ ইন ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। ভারত এই পর্যন্ত বাংলাদেশের সৎ প্রতিবেশীর পরিচয় দিতে পারেনি।
সাইফুল হক সমতা, ন্যায্যতা ও সমমর্যাদার ভিত্তি বাংলাদেশের সাথে অমীমাংসিত বিষয়সমূহের সমাধানে এগিয়ে আসতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপি সরকারের চার মাসের কার্যক্রম উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনপ্রত্যাশা পূরণে সামাজিক- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকার যেটুকু এগিয়ে আছে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সরকার সে অগ্রগতি দেখাতে পারছেনা।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও বহুত্ববাদী ধারায় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে সুযোগ তৈরী হয়েছে তাকে কোনভাবেই নষ্ট করা যাবেনা। তিনি বলেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সরকারের ভালো কাজকে যেমন প্রশংসা করবে তেমনি দেশ ও জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপকে বিরোধীতা করবে।
সমাবেশে পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, জনপ্রত্যাশা পূরণে বিএনপি সরকারকে প্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন নির্বাচিত সরকারের আমলেও মানুষের জানমাল, জীবন-জীবিকা এখনও নিরাপদ হয়নি। নারী শিশুরা এখনও পাশবিক নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা ধর্ষণের শিকার। এ অবস্থা চলতে পারেনা।
আকবর খান বলেন, গত ২২ বছর দেশ ও জনগণের প্রতিটি ইস্যুতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি যেমন জনগণের স্বার্থে লড়াই করেন আগামীতে অধিকার, ইনসাফ ও মুক্তি অর্জনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি তার আপোষহীন বিপ্লবী সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।
সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নেতা আকবর খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আবু হাসান টিপু, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, মাহমুদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, সাইফুল ইসলাম, অরবিন্দু বেপারী বিন্দু, রেজাউল আলম, কেন্দ্রীয় সংগঠক জামাল সিকদার, বাবর চৌধুরী প্রমুখ।
সমাবেশের পর দেশের সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংগিকার ব্যক্ত করা হয়। এরপর পার্টির একটি শোভাযাত্রা দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট,, তোপখানা রোড, বিজয়নগর প্রদক্ষিণ করে সেগুনবাগিচায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।