বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের প্রথম ধাপের ভর্তি কার্যক্রম শেষে মোট আসনের প্রায় ৯৬ শতাংশই ফাঁকা রয়েছে। ভর্তি হয়েছেন মাত্র ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বুটেক্সের ১১টি বিভাগের অধীনে মোট ৬৩০টি আসনের বিপরীতে প্রথম ধাপে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ২৭ জন শিক্ষার্থী, যা মোট আসনের প্রায় ৪ শতাংশ। ফলে এখনো ৬০৩টি আসন ফাঁকা রয়েছে। পরবর্তী ধাপের ভর্তি কার্যক্রম আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন পরবর্তী মেধাক্রম ৬৩১ থেকে ১৮০০ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ২৩ জন এবং ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথম ধাপের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নির্বাচিত প্রার্থীরা সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। পরে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম অনুসারে ভর্তি সম্পন্ন হয়।
এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে মেধাক্রম ১ থেকে ৬৩০ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি উপজাতি কোটায় আরও দুজন শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করা হয়।
ভর্তির সর্বশেষ পরিস্থিতি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনকালীন যাতায়াত সুবিধার কথা চিন্তা করে এবার আমরা কম সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ডেকেছি। তবে পরবর্তী ভর্তির তারিখে এই সংখ্যা আরো বাড়বে। ১৮০০ সিরিয়াল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ডাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ২৩ ফেব্রুয়ারিতে পরবর্তী ভর্তি হবে। বুয়েট ভর্তির পরেই আমরা শিক্ষার্থীদের ডাকব। অনেকে কেমিক্যাল বা ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়েও এখানে ভর্তি হচ্ছে। এমনকি বুয়েটে ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে দেশের বাইরে যাওয়া ছাড়া দেশে খুব একটা সুযোগ না থাকলেও বুটেক্সে এই বিষয়ে পড়ে দেশেই ক্যারিয়ার গড়ার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।’
ভর্তি ফি-র স্বচ্ছতা ও বাজেট ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বছরই প্রথমবারের মতো বুটেক্সের ভর্তি ফি খাতভিত্তিক টাকার পরিমাণটা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানতে পারছেন, ভর্তির সময় প্রদানকৃত অর্থের কত অংশ কোন খাতে ব্যয় করা হচ্ছে। আমরা এটি নিশ্চিত করছি যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ফান্ডের প্রতিটি টাকা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে সংরক্ষিত থাকবে। এখানে কোনো প্রকার আর্থিক অনিয়ম বা কারচুপির সুযোগ নেই। সংগৃহীত সকল অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খাতে জমা থাকবে এবং এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম ও নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।’
প্রসঙ্গত, চলতি শিক্ষাবর্ষে বুটেক্সের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৯ জানুয়ারি, যেখানে মোট ১১ হাজার ২৯৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।