ইবির জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি © টিডিসি ফটো
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের ঘটনায় নিজের অনুপস্থিতির কথা পূর্বেই জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে নিয়োগ প্রার্থীদের ভোগান্তির দায় প্রশাসনের বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান। একইসাথে, তিনি ক্যাম্পাসে ছিলেন না বা বিভাগে যাননি-এমন দাবিরও সত্যতা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের ব্যাপারে জানতে চাইলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এসব বলেন তিনি। এর আগে, সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনে প্রভাষক পদে নিয়োগ বোর্ড শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ২ ঘণ্টা পর বোর্ড স্থগিতের ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর পরপরই দুপুরে বোর্ড স্থগিতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, খেলাফত ছাত্র মজলিশ ও অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
নিয়োগ স্থগিতের বিষয়ে জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি বলেন, ২১ তারিখে আপগ্রেডিং বোর্ডের ব্যাপারে রেজিস্ট্রার স্যারের সাথে আমার কথা হয়েছিল কিন্তু নতুন নিয়োগের ব্যাপারে কোন কথা হয়নি। প্রভাষক নিয়োগের ব্যাপারে জানতে পেরে আমি নিজেই গতকাল সকালে নিয়মানুযায়ী রেজিস্ট্রার এবং ভিসি স্যারের সাথে কথা বলেছিলাম। তাদের আমার উপস্থিতির অপারগতার ব্যাপারে জানিয়েছিলাম এবং প্রার্থীদের ভোগান্তির ব্যাপারে আগেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলাম। একই কথা গতকাল সারাদিন বলেছি, রাতেও জানিয়েছি এবং আজ সকালেও জানিয়েছি। ভোগান্তির যেই বিষয়টা সামনে আনা হচ্ছে, সেই বিষয়ে আমি যথেষ্ট সচেতন ছিলাম।
তার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও নিয়োগ হয়ে গেলে কোন আপত্তি থাকতো না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে বিষয়ে আমি দ্বিমত পোষণ করি সে বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার থাকা না থাকার বা উপস্থিতির রাইট অবশ্যই আমার আছে বলে আমি মনে করি। এজন্য আমি যথাসময়েই ব্যাপারটি জানিয়েছিলাম। প্রশাসনকে বলেছিলাম যে, আমার অনুপস্থিতিতে যদি নিয়োগ বোর্ড সফল হয় তাহলে আমার কোন আপত্তি নেই। তবে যদি আমার উপস্থিতি আবশ্যক মনে করেন তাহলে আমার অবস্থান এরকম। আমি সত্যি বলছি কি না বা তাদের জানিয়েছি কি না এ ব্যাপারে ভিসি মহোদয় বা রেজিস্ট্রার মহোদয়কে জিজ্ঞেস করলেই তারা বলবেন।
তিনি আরও বলেন, উনারা বোর্ড যেহেতু স্থগিত করলেনই আজকে, সেটা তারা গতকাল সকালেই করতে পারতেন। আজকে সকালে প্রার্থীদের যে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হলো সেই দায় আমার নয়। কেন এই নিয়োগ আগেই স্থগিত করেনি, সে বিষয়টা আমার জানা নাই। কারণ, আজকের বোর্ডের বিষয়টি হঠাৎ করেই আসেনি। গত ১৪ তারিখে আমাদের (ইউট্যাবের) মিটিং হয়েছিল। সেই মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারি আমরা নিয়োগের ব্যাপারে ভাইস চ্যান্সেলরকে অনুরোধ করে রেখে এসেছিলাম। তখন থেকেই আমাদের অবস্থান একই আছে। আমি আজকে যথানিয়মে ক্যাম্পাসে উপস্থিত আছি। তবে, আমি যে বোর্ডে থাকব না তা গতকাল ক্যাম্পাস খোলার আগেই সকাল সাড়ে আটটার দিকে কনফার্ম করেছিলাম।
বিভাগের বিভিন্ন সংকটের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভাগে বিভিন্ন সংকট রয়েছে সেটা সত্য। শিক্ষকের সংকট আছে সেটাও জানি। তবে আমরা এটা কিছুদিন বিলম্বিত করতে চেয়েছিলাম। সেটা ১০/১২ দিন বা সর্বোচ্চ ১৫ দিন। যাতে তারপরে হলেও আমরা কোন বিতর্কের মধ্যে না জড়াই। আমাদের পরিষদ এইভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো এবং ইউট্যাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি সেই সিদ্ধান্তের উপরেই ছিলাম। তবে পদোন্নতি বোর্ডের ব্যাপারে আমাদের কোন আপত্তি ছিলো না। বোর্ড যেদিন ই হোক, যেদিন যোগদানের ৩ বছর পূর্ণ হয় সেদিন থেকেই তারা গণ্য হবেন। এজন্য আমি আজকের পদোন্নতি বোর্ডে থাকতে কোন অস্বস্তিবোধ করিনি। তবে প্রশাসন চাইলে এটাও স্থগিত করতে পারতো, সেখানেও আমার কিছু বলার ছিলো না। আমার জায়গা থেকে আমি যথানিয়মে ক্যাম্পাসে উপস্থিত আছি।