খুবি © ফাইল ফটো
ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত আবেদনের শর্ত পূরণ না করলেও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনে মাস্টার্সে এক শিক্ষার্থীকে ভর্তি নিয়েছে বিভাগটির কর্তৃপক্ষ। অনিয়মের মাধ্যমে ভর্তি করা মো. খালিদ হাসান শান্ত নামের ওই শিক্ষার্থী খুলনার সরকারি ব্রজলাল কলেজ থেকে প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে চার বছরের বিএসসি ডিগ্রি নিয়েছেন।
জানা গেছে, গতবছরের ২১ অক্টোবর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল আবেদন সময়সীমা। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশিত হয় ১৭ ডিসেম্বর। এরপর গত ২৭ ডিসেম্বর লিখিত পরীক্ষা শেষে ওই দিনই ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নিয়মিত মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য প্রার্থীদের অবশ্যই ১৬ বছরের শিক্ষা সম্পন্ন হতে হবে। ও ছাড়া সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি অথবা সমাজবিজ্ঞানে তিন বছরের স্নাতক এবং এক বছরের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে; অথবা ১৫ বছরের শিক্ষা অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞানে তিন বছরের স্নাতক ডিগ্রির সাথে অন্তত দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা (১০ম গ্রেড বা তার উপরে) থাকতে হবে। যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান (দেশীয় বা বিদেশি) থেকে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ অথবা দ্বিতীয় বিভাগ থাকতে হবে।
এই অনিয়ম প্রকাশ্যে আসলে ক্ষুব্ধ ও অবাক হন সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, মাস্টার্সে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা ভর্তি হতে পারে না। অন্যদিকে অনিয়ম করে আবেদনের শর্ত পূরণ ছাড়াই বাহিরের গ্রাজুয়েটরা ভর্তি হয়। তাছাড়া প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে গ্রাজুয়েশন করা স্টুডেন্ট চূড়ান্ত ভর্তি হয়ে গেল এতগুলো ধাপে ভর্তি কমিটির কারোরই চোখে পড়লো না?
ভর্তি আবেদনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা জানতে চাইলে এ বিষয়ে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি পূর্বে পূর্ণাঙ্গ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখিনি। যে কারনে আমি আবেদন করেছি। ডিসিপ্লিনের শিক্ষকদের সাথে কোনো সম্পর্কও নেই। আমারও প্রশ্ন শিক্ষকরা কীভাবে এটা দেখলো না।’
এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান বলেন, এ বিষয়টি অফিসের মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। ভর্তি কমিটিতে সবাই অভিজ্ঞ শিক্ষকরা ছিলেন। এখানে শিক্ষকরা কোনো ইচ্ছাকৃত অনিয়ম করেনি। আমরা ওই শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘এটা তো কোনোভাবেই হওয়ার কথা ছিল না। কীভাবে হলো এটার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছি। কেউ দোষী হলে এক বিন্দুও ছাড় পাবে না।’