আইসিটি বিভাগের রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ © টিডিসি
জমকালো আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রজতজয়ন্তী উৎসব-২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে। আনন্দ র্যালি, আলোচনা সভা, অ্যালামনাই মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ উৎসবে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় ক্যাম্পাস।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনের সামনে থেকে একটি আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এসে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক হিসেবে বক্তব্য দেন রজতজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী ২০২৫-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন।
বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, ‘বিশ্বে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হলেও এদেশের মানুষ এখনো দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের সুযোগ-সুবিধা এখনো পরিপূর্ণভাবে পাচ্ছে না। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুযোগ সুবিধা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে। আজকের অনুষ্ঠানের টাকার মাঝেও মেহনতী মানুষের ট্যাক্সের টাকা রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তিতে শিক্ষিত হয়ে সবাইকে মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রবাহ বা সুযোগ সুবিধা নেই। আপনারা এখানে অবদান রাখলে আমাদের শ্রম স্বার্থক হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘অ্যালামনাইরা নিজেদের কাজের পাশাপাশি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তা ব্যবহার করে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবর্তন করে, যা আপনাদের দ্বারাও সম্ভব। আপনাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবিড় একটি সম্পর্ক হতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয় আপনাদের আত্মবিশ্বাসের জোগান দিয়েছে। ২৫ বছরের ইতিহাসে আপনারা অনেকেই ভালো জায়গায় প্রতিষ্ঠিত আছেন। আইসিটি এখন ডিজিটালাইজেশনের সঙ্গে সংমিশ্রিত হচ্ছে, ডিজিটাল কোডিং হচ্ছে। আইসিটি এখন পলিসি মেকিংসহ প্রতিটি সেক্টরে অবদান রাখছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইসিটি বিভাগ শুরুতে রুগ্ন হলেও এখন অনেক সমৃদ্ধ একটি বিভাগে পরিণত হয়েছে। সামাজিক পরিবর্তনের জন্য আইসিটি একটি প্ল্যাটফর্ম, যা পৃথিবীর রূপ বদলে দিয়েছে আর আপনারা এর কারিগর। বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাইদের নিয়ে গর্ব করে, বাবা মা যেমন সন্তানকে নিয়ে গর্ব করে। আপনারা যখন পরিবর্তনের জন্য কাজ করেন তখন আপনারা ভাব্বেন যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যতের জন্য আপনারা কীভাবে করতে পারেন। আপনাদের অবদানেই এই বিশ্ববিদ্যালয় আরো এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করছি।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিভাগের অ্যালামনাইবৃন্দ বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া অডিটরিয়ামে রজতজয়ন্তী উপলক্ষে এক জমকালো কনসার্টের আয়োজন করা হয়, যেখানে গান পরিবেশনা করে জনপ্রিয় সংগীত ব্যান্ড ওয়ারফেজের সাবেক ভোকালিস্ট মিজান এবং তার দল।
এর আগে গতকাল বিকেলে বিভাগের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে চা চক্র, পিঠা উৎসব, স্মৃতিচারণ পর্ব ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ১৯৯৮-১৯৯৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৭০০ সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।