শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ইবির সহ-সমন্বয়কের পদত্যাগ

০৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৪৬ PM , আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৫১ PM
পারভেজ হাসান চয়ন

পারভেজ হাসান চয়ন © সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের আশার প্রতিফলন দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ক্ষমা চেয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করেছেন এক সহ-সমন্বয়ক। তার নাম পারভেজ হাসান চয়ন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগের এ ঘোষণা দেন। 

দীর্ঘ স্ট্যাটাসটি তার টাইমলাইন থেকে হুবহু তুলে ধরা হলো
২৪শের জুলাই আন্দোলনে সারাদেশের ছাত্রজনতার মত, আমি এক ক্ষুদ্র ব্যক্তি হিসাবে ইবির আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। আন্দোলনে কতটা অবদান রাখছিলাম জানি না কিন্তু মন থেকে চেয়েছিলাম মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে, চেয়েছিলাম জুলুমকারীর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে। এরই ধারাবাহিকতায় ইবির আন্দোলনে একজন নগণ্য ব্যক্তি হিসাবে অবদান রাখার চেষ্টা করেছিলাম। জানি না কতটুকু অবদান রেখেছিলাম। 

গত ৫ আগস্টের পরে একটা সুন্দর বাংলাদেশ দেখার অপেক্ষায় ছিলাম, সেই সাথে আমার ক্যাম্পাসও। কিন্তু দুঃখের বিষয় আন্দোলন পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের ক্ষমতার লোভ কিভাবে একটা সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ার হাত থেকে দূরে চলে গেল তা নিজ চোখেই দেখলাম। সেই সাথে নোংরা রাজনীতি কীভাবে সম্ভাবনাময় স্বাধীনতা রক্ষার হাত থেকে দূরে সরে যায় সেটাও দেখলাম। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা কঠিন এখন তা উপলব্ধি করি।

দেশের এমন অবস্থায় চিন্তা করতাম এখানে তো আমি ক্ষুদ্র মানুষ হিসাবে কোন হাত নেই কিন্তু আমার প্রিয় ইবিকে সুন্দর ক্যাম্পাস উপহার দেওয়ার মত সুযোগ আমার আছে। এজন্য নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি সব পক্ষের সাথে কথা বলে একটা সুন্দর ক্যাম্পাস গড়ার। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ক্ষমতার জন্য সবাই মরিয়া। 

বার বার সবার সাথে কথা বলেও পরিবর্তন করতে পারছিলাম না, তখন পদত্যাগ করার চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু আবার ভেবেছিলাম অন্যভাবে চেষ্টা করি যদি কিছু হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তা হয়নি। এত কোরামবাজির মধ্যেও নিজে সত্যকে সত্য বলার চেষ্টা করেছি। কোন পক্ষের হয়ে কাজ করিনি চেষ্টা করেছি নিজ জায়গা থেকে সত্যের পক্ষে বলার। 

প্রায় দেড় বছর ধরে সমন্বয়ক পরিষদে থেকে নিজের জায়গা থেকে মিথ্যাকে মিথ্যা, সত্যকে সত্য বলার চেষ্টা করেছি। কখনো কোথাও সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করিনি। সমন্বয়ক পরিচয়ে কোথাও ক্ষমতা দেখায়নি, এ পরিচয়ে কারো সাথে কখনো উচ্চস্বরে কথা বলিনি কারো সাথে। তবুও যদি ভুলবশত কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করে থাকি, আমার অজান্তে কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করে থাকি আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। 

ইবির শিক্ষার্থী ভাই-বোনদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আপনাদের আশার প্রতিফলন দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি কিন্তু আমি ব্যর্থ, ক্ষমা করবেন। আমি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হব না। আমি একজন্য নগণ্য মানুষ হিসাবে সাধারণ জীবনযাপন পছন্দ করি। সর্বোপরি একটি সুন্দর দেশ, একটা সুন্দর ক্যাম্পাস হোক এ প্রত্যাশা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শিল্পমুখী করতে রাবিতে প্রথম ‘ইনকিউ…
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাকিস্তান কি সিদ্ধান্ত বদলে ভারতের বিপক্ষে খেলবে?
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা-১১ আসনে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে নাহিদ
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশীয় কারখানায় এসি বাস তৈরি: আত্মনির্ভরতার পথে বিআরটিসি
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলে কারও কারও প্রতি দূর্বলতা দেখা গেছে …
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তারেক রহমান একটা কাগজে বাঘ: নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬