খুবির রাস্তার বেহাল দশা © টিডিসি ফটো
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অন্যতম ব্যস্ত সড়ক ‘হলরোড’ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তার বড় বড় গর্ত, কাদাপানি আর যানজট—সব মিলিয়ে এ পথ যেন দুর্ভোগের আরেক নাম হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় সংস্কার কাজও থমকে আছে বহুদিন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গল্লামারী মোড় থেকে বিসমিল্লাহ সড়ক পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে অসংখ্য গর্ত ও কাদামাটি জমে রয়েছে। বৃষ্টি হলে পানি জমে চলাচলের আরও অনুপযোগী হয়ে পড়ে পথটি। আবার গল্লামারী ব্রিজ নির্মাণকাজের কারণে প্রতিনিয়ত যানজটও লেগে থাকে। সব মিলিয়ে হলরোড দিয়ে যাতায়াত করা শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন খান জাহান আলী, খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ ও বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন হলের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি বিসমিল্লাহ ও শাহ শিরীন এলাকার ছাত্রাবাস এবং আশপাশের দোকানপাটে যাওয়া–আসার জন্যও শিক্ষার্থীদের নির্ভর করতে হয় এই পথের ওপর।
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন হলের শিক্ষার্থী মাহমুদ শেখ বলেন, ‘প্রতিদিন হল থেকে বের হলেই দুর্ভোগ। হেঁটে গেলে কাদা-পানি, রিকশায় গেলে গর্তে ঝাঁকুনি। সামান্য বৃষ্টিতে তো রিকশাও পাওয়া যায় না। মনে হয়, এটা শিক্ষার্থীদের রাস্তা বলেই অবহেলা করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: রেড মার্চ ফর জাস্টিস: বিচারের দাবিতে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, ‘রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে গিয়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এলজিইডির সহায়তায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।’
তবে এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমাবদ্ধতার কথা জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘হলরোডের অবস্থা খারাপ এটা আমরা জানি। কিন্তু এটি আমাদের প্রশাসনের অধীনে না। এলজিইডির বটিয়াঘাটা উপজেলা কর্তৃপক্ষকে জানানো যেতে পারে।’
বটিয়াঘাটা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী উত্তম কুমার মণ্ডল জানান, ‘গল্লামারী মোড় থেকে ময়ূরী নদীর ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তাটি আমাদের আওতায় পড়লেও কাজ শুরু হয়নি কেডিএ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিরোধের কারণে। কেডিএ চায় রাস্তা প্রশস্ত করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর সরাতে হবে। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাস্তা লিনিয়ার পার্কের দিকে সরানোর কথা বলেছে। এই মতানৈক্যের কারণে প্রকল্পটি ঝুলে আছে।’