গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি চক্র, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আটক ৩

০৮ আগস্ট ২০২৫, ১২:২৯ PM , আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৫, ০২:৩০ PM
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সির দায়ে আটক তিনজন

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সির দায়ে আটক তিনজন © টিডিসি সম্পাদিত

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রক্সি জালিয়াতির অভিযোগে ৩ জনকে আটক করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে চূড়ান্ত ভর্তি হতে এসে ধরা পড়েন ত্রিশালের বাসিন্দা ওবায়েত হাসান আফিক। তাঁর গুচ্ছ ভর্তির রোল নম্বর ছিল ২০১৬৯৭। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আটক অপর দু’জনসহ চক্রের কয়েকজনের হদিস পাওয়া যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত ভর্তি চলাকালীন বিভাগে নিজের স্বাক্ষর ঠিকমতো দিতে না পারায়, প্রবেশপত্রের সঙ্গে চেহারার অমিল ও ৭৬তম হওয়ার পরও বিজ্ঞান বিভাগের সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় সন্দেহ তৈরি হয় ভাইভা বোর্ডে থাকা শিক্ষকদের। পরে তার অভিভাবকের কথা জানতে চাইলে কল দিয়ে বড় ভাই পরিচয়ে নিয়ে আসেন পনির উদ্দিন খান পাভেল নামের এক ব্যক্তিকে।

তাদের দুজনের কথার মাঝে অসঙ্গতি খুঁজে পেয়ে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীর ফোনের হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ চেক করে পাভেলের সাথে কিভাবে স্বাক্ষর করবে এবং ভর্তির লেনদেন বিষয়ক আলাপ পাওয়া যায়। পরে পাভেলের ফোন চেক করে সেখানে অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু ও চাকরিপ্রার্থীদের প্রবেশপত্র ও প্রার্থীদের ছবি দেখতে পান দায়িত্বরত শিক্ষকরা। এরপর শিক্ষকদের জেরায় প্রক্সি জালিয়াতির কথা স্বীকার করেন আফিক।

এ সময় পাভেলের ফোনে সিয়াম নামের একজন কল করে এবং অপর প্রান্ত থেকে বলতে শোনা যায়, ‘ভর্তির কি অবস্থা ভাই?’। পরে কলের কথা শেষ হলে সিয়ামের পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু পাভেল তা জানাননি। এ সময় সিয়ামের নাম ও মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাটাবেইজে সার্চ করেন সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম। দেখা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আইন ও বিচার বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী। তার পুরো নাম সালমান ফারদিন সাজিদ সিয়াম।

সিয়ামকে বিভাগে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও তার হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ যাচাই করে পাভেলের সাথে তার সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় আরেক প্রক্সিকাণ্ডে। সিয়ামের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তিনি কৌশিক কুমার চন্দ নামের এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা প্রক্সি দিয়েছেন, যেখানে পাভেল তাকে প্রায় ১ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। জানা যায়, প্রক্সি শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই ভর্তি হয়েছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগে। কৌশিকের গুচ্ছ ভর্তি রোল ২০৪৩৯৩।

সিয়ামের স্বীকারোক্তি চলাকালীন সময়ে তার ফোনে কল আসে শান্ত ভূইয়া নামের এক শিক্ষার্থীর। তিনি কল করে সিয়ামকে বলেন, ‘তোর ক্যান্ডিডেটের নাকি সমস্যা হয়েছে?’ পরবর্তীতে এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যায়, ফোন দেওয়া শিক্ষার্থী সিয়ামের বন্ধু শান্ত ভূইয়া, যিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। মূলত শান্তর মাধ্যমেই পাভেলের সাথে পরিচয় হয় সিয়ামের।

আরও পড়ুন: কক্সবাজার সৈকতে ডুবে ৭ মাসে ১৩ মৃত্যু, খোঁজ মিলল না শুধু অরিত্রের

জানা যায়, পনির উদ্দিন খান পাভেল মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদীখান উপজেলার বাসিন্দা। ভর্তি হতে আসা ওবায়েত হাসান আফিকের বাড়ি ত্রিশালের চরপাড়ায়। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিয়ামের ফোনে পাওয়া যায় আরেক শিক্ষার্থীর ওএমআর-এর ছবি। যিনি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। তবে পাভেল বলছে, বাবু নামের আরেকজনের নির্দেশে কাজ করেন তিনি। ভর্তি সংক্রান্ত সব বিষয় সে দেখে। এছাড়াও তিনি জানান, লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের কৌশিক কুমার চন্দকে ভর্তি করতে বাবু গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন।

এ ঘটনায় ওবায়েত হাসান আফিকের প্রক্সি কে দিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে আফিক ও কৌশিক এই দুজনেরই প্রক্সি দেওয়া হয় জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে। এ ঘটনায় অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ার দুর্বলতা, বিভিন্ন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রে পরীক্ষায় অসচ্ছতা, জামালপুরের কেন্দ্রকে টার্গেট করে গড়ে ওঠা জালিয়াতি চক্রের বিস্তারসহ নানান বিষয়ে।

পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় সত্যটা যেন বের হয়ে আসে। ঘটনাটি জামালপুরে ঘটেছে, তবে সেটি আমাদের এখানে এসে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত চেষ্টায় ধরা পড়েছে। তদন্ত করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যোগাযোগ থাকবে।

দেশের ১০ সরকারি কলেজে নতুন অধ্যক্ষ, তালিকা দেখুন এখানে
  • ১৯ মে ২০২৬
জনবল নিয়োগ ছাড়াই চালু হচ্ছে ৫ শিশু হাসপাতাল, অন্য প্রতিষ্ঠা…
  • ১৯ মে ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশি…
  • ১৯ মে ২০২৬
নেত্রকোনার পুত্রবধূ হলেন লন্ডনের কাউন্সিলর
  • ১৯ মে ২০২৬
নেইমারকে দলে রাখার কারণ জানালেন কোচ
  • ১৯ মে ২০২৬
যে ৫ খাবার গরম করে খেলেই বাড়ে লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি
  • ১৯ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081