বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় © টিডিসি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ছাত্র-জনতার জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষে ‘জুলাই অভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক বিকাশে ছাত্র-জনতার ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রবিবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
সহকারী প্রক্টর ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মাসুদা কামাল ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ সোলায়মান।
এ ছাড়া অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম ‘প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ: জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণচেতনা’ নিয়ে আলোচনা করেন।
ড. গীতি আরা নাসরীন আলোচনায় অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমাদের দায়িত্ব এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশে প্রায় সব ক্ষেত্রে কমিশন রয়েছে, কিন্তু শিক্ষা কমিশন নেই, যা বিস্ময়কর। জুলাই আন্দোলনকে টেকসই করতে হলে প্রথমেই শিক্ষা ও শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে। আমাদের দেশের শিক্ষিত সমাজের একটি অংশ লুটপাটে জড়িত, যার পেছনে বড় কারণ পাঠ্যসূচি। পাঠ্যসূচি আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে না। ব্রিটিশ আমল থেকে সৃষ্ট এ সংকট দূর করতে হলে পাঠ্যপুস্তকে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন ছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে পুরো জাতির ঐক্য। প্রাইমারির শিক্ষার্থী থেকে রিকশাচালক পর্যন্ত সবাই আন্তরিকভাবে অংশ নিয়েছিল। তবে স্বৈরশাসকের পতনের পরও তার শিকড় সমাজ থেকে পুরোপুরি উপড়ে ফেলা যায়নি। তরুণদের সচেতন হতে হবে এবং সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়তে নেতৃত্ব দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের আগে যে অখণ্ড ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিই বিপ্লবের মূল শক্তি ছিল। কিন্তু সেটি স্থায়ী হয়নি, যা দেশের জন্য অশনিসংকেত। গণতান্ত্রিক বিকাশের জন্য মূল্যবোধ ও জ্ঞানের প্রতি প্রতিশ্রুতি—এই দুটি দিকই গুরুত্বপূর্ণ, আর এর ভিত্তি গড়ে ওঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই।’
প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘এই আন্দোলন ছিল একটা স্বৈরাচার বনাম সারা দেশ। সারা জাতি একত্রিত হয়েছিল এই স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে। এমন সন্ধিক্ষণ পৃথিবীতে খুব কমই হয়। এই আন্দোলনে প্রাইমারির শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রিকশাচালক, দিনমজুর সবাই অংশগ্রহণ করেছিল তাদের নিজেদের অন্তরের একটা আকাঙ্ক্ষা থেকে, যা ছিল মিথ্যাচার, অন্যায় ও অপশাসনের বিরুদ্ধে। ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে একজন স্বৈরশাসকের পতন ঘটলেও বিগত ১৬-১৭ বছরে তারা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে যে শিকড় বিস্তার করেছিল তা উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। এ কারণেই স্বৈরাচার পতনের ১ বছর পরও আমরা তেমন কোনো সুফল দেখতে পাচ্ছি না। আমি তরুণদের বলব, আপনারা সচেতন হোন। আমি আশাবাদী আপনাদের নেতৃত্বে দেশে সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। দেশকে ভালোবাসে এমন মানুষ থাকবে নেতৃত্বে।’